চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে সমাপ্ত আমন মৌসুমে ধান-চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্র পূরণ করতে পারেনি আঞ্চলিক খাদ্য অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৪৫ হাজার ১৮৮ টন সেদ্ধ চাল, ৩৮ হাজার ৪৬ টন আতপ চাল এবং ২৭ হাজার ৭৩৫ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। বারবার তাগাদা দেয়ার পরও লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি পর্যায়ে ধান-চাল ক্রয়ে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এজন্য ধান-চাল বিক্রিতে কৃষকের আগ্রহ কম। সরকারের কাছে ধান-চাল বিক্রি করলে টাকা পেতেও দীর্ঘ সময় লাগার কারণে কৃষক আগ্রহ দেখান না। তবে যেসব চালকল মালিকদের সঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের চুক্তি ছিল, এদের মধ্যে যারা ব্যর্থ হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলের ১১টি জেলায় সেদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ হাজার ১৮৮ টনের বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে ৪৩ হাজার ৬০৫ টন। আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার ৪৬ টন। সংগ্রহ হয়েছে ২৩ হাজার ৮৩৩ টন। ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২৭ হাজার ৭৩৫ টনের বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৫৯০ টন। এ অঞ্চলের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলায় ধান-চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সেদ্ধ চাল সরবরাহের জন্য চুক্তি রয়েছে ২২০টি মিল মালিকের সঙ্গে। এছাড়া আতপ চাল সরবরাহের জন্য চুক্তি রয়েছে ২১৫টি মিল মালিকের সঙ্গে। মৌসুমে ধান ৩০ টাকা, সেদ্ধ চাল ৪৪ ও আতপ চাল ৪৩ টাকা করে কেজিপ্রতি দর দেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলায় সেদ্ধ চাল সংগ্রহ হয়েছে ৭১১ টন, আতপ চাল ৬ হাজার ১৭৩ এবং ধান সংগ্রহ হয়েছে ৭১ টন। কক্সবাজারে আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে ২ হাজার ৮৯৪ টন। রাঙ্গামাটিতে আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে ৫৭৮ টন। খাগড়াছড়িতে সংগ্রহ হয়েছে ১ হাজার ৫৭৮ এবং ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র তিন টন। বান্দরবানে আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে ৭৫৮ টন। নোয়াখালীতে সেদ্ধ ৭ হাজার ৭৬৪ টন, আতপ চাল ৩২০ ও ধান সংগ্রহ হয়েছে ৭০৪ টন। লক্ষ্মীপুরে সেদ্ধ চাল ২ হাজার ৫২২ এবং ধান সংগ্রহ হয়েছে ৮০৫ টন।
এছাড়া ফেনীতে সেদ্ধ চাল ৮২৩ এবং ধান সংগ্রহ হয়েছে ৪৫ টন। কুমিল্লায় সেদ্ধ চাল ১০ হাজার ৭৩০, আতপ চাল ৫ হাজার ১৩২ ও ধান সংগ্রহ হয়েছে ৪৯৯ টন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেদ্ধ ১৯ হাজার ৫৯, আতপ চাল ৬ হাজার ৮৫ এবং ধান সংগ্রহ হয়েছে ৪৬২ টন। চাঁদপুরে সেদ্ধ ১ হাজার ৯৯৬ ও আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে ৩২০ টন।
খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের দেয়া লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান বা চাল কেনার জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন তারা। ধান-চাল সরবরাহের দায়িত্ব চালকল মালিকদের। সরকারিভাবে চাল কিনতে হলে স্বাভাবিক বাজারের থেকে একটু ভিন্নভাবে ধান শুকনো, ভেজা কিনা, চিটা কিংবা চাল ভাঙা আছে কিনা এসব বিবেচনা করে সংগ্রহ করতে হয়। যারা বিক্রি করবেন তারা অনেক হিসাব-নিকাশ করে বিক্রি করতে আসেন। বাজারে ধান বা চাল বিক্রি করলে সঙ্গে টাকা পাওয়া গেলেও সরকারিতে কিছুটা সময়ক্ষেপণ হয়। যাদের টাকা দ্রুত দরকার তারা বাজারে বা আড়তে গিয়ে বিক্রি করেন। বিভিন্ন সংকটের কারণে সরকারের দেয়া লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও কাছাকাছি হয়েছে।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী উপপরিচালক দোলন দেব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ২৮ ফেব্রুয়ারি ধান-চাল ক্রয় শেষ করেছে সরকার। আতপ চাল সংগ্রহের জন্য মার্চের ১০ তারিখ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছিল। তাতে সমাপ্ত আমন মৌসুমের সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয়ের সময়সীমা শেষ হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ বেশি হয়েছে। আমাদের কাছে ধান-চাল সরবরাহ করার জন্য মিল মালিকদের চুক্তি হয়েছিল। তাদের চুক্তি অনুয়ায়ী তারা সরবরাহ করেছে কিনা সে তালিকা করা হচ্ছে। যারা সরবরাহ করতে পারেননি তাদের জামানত বাজেয়াপ্তসহ আগামী মৌসুমে নতুন চুক্তিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’










