ঢাকা সেনানিবাসে গতকাল সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।

প্রথম পর্বের এ পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়নে যথানিয়মে যোগ্যদের বাছাই করে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত এ সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমেই পদায়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে আগামী দিনের দূরদর্শী এবং পেশাদার নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হবে বলে বিশ্বাস করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করলে পেশাদারত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সেনা সদর সিলেকশন বোর্ড যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। মেধা ও যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি। পদোন্নতির জন্য একজন অফিসারের শারীরিক যোগ্যতা ও ফিজিক্যাল অ্যাপিয়ারেন্স অন্যতম বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত।’

ফিজিক্যাল ফিটনেস তথা নিয়মিত শারীরিক কসরতের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রয়াত মার্কিন জেনারেল ‘নরম্যান সোয়ার্জকফ’-এর একটি মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জেনারেল এইচ নরম্যান সোয়ার্জকফ বলেছিলেন, “দ্য মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্য লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়ার।” তাই সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই আপসের সুযোগ নেই। এ নির্বাচন পর্ষদের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্য, গৌরব ও পেশাদারত্বের ধারাবাহিকতা আরো সুদৃঢ় করবেন। বর্তমান সরকারের দর্শন হচ্ছে দেশের স্বার্থ রক্ষায় “সবার আগে বাংলাদেশ”। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় “সবার জন্য বাংলাদেশ”।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আজকের এ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসে পরিণত করেছেন। নিঃসন্দেহে দেশের সেনাবাহিনীর জন্য এটি একটি গৌরবময় অধ্যায়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পর পরই সেনাবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট এবং বাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির একধরনের অপপ্রয়াস লক্ষণীয় ছিল। সেই অস্থির সময়েও সাবেক সেনাপ্রধান শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমেই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।’

তারেক রহমান বলেন, ‘সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যে আমি একধরনের গৌরব বোধ করি। আবার সেনাবাহিনীর কোনো নেতিবাচক খবরে অস্বস্তি অনুভব করি। ক্যান্টনমেন্ট আমার গভীর আবেগ ও স্মৃতিময় স্থান। আপনারা জানেন, ঘরে-বাইরে সেনা পরিবেশেই আমার কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলো কেটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনীর নিয়ম-শৃঙ্খলা ও বিধিবিধান সম্পর্কেও আমি অনেকটা ওয়াকিবহাল। এসব কারণে সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর হই। সেনা পরিবেশে অনুসৃত শৃঙ্খলা ও নিয়মতান্ত্রিক অনুশাসনের মধ্যেই আমি আমার বাবা-মা ও একমাত্র ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি। সেনাবাহিনীকে বরাবরই আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলেই মনে করি।’

এর আগে সকালে সেনা সদরে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান।

নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) একেএম শামছুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। সেই সঙ্গে তিনি সেনাবাহিনীর পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লেখেন।