খেলার মাঠে শিশু ও তরুণদের আকৃষ্ট করা গেলে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে ‘খেলাধুলা বাড়ায় প্রাণ, হৃদয় থাকে শক্তিমান’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদক ও তামাকের ভয়াবহ প্রভাবের কারণে যুবসমাজ ক্ষতির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে তরুণদের খেলাধুলার দিকে আনতে হবে। মাঠে সম্পৃক্ত করা গেলে একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে থেকেই স্বাস্থ্য খাতে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছে। অসুস্থতা কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ ও গর্ভবতী নারীরা যাতে কম অসুস্থ হন, সে বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী এবং ২০ শতাংশ পুরুষ থাকবেন। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সচেতন করবেন। এতে মৌসুমি রোগসহ নানা সমস্যার সমাধান অনেকটাই সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার এরই মধ্যে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য ভাতা চালু করেছে। প্রথম ধাপে ১২৯ জনকে এই সুবিধা দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন খেলোয়াড়কে বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এতে তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলায় আগ্রহী হবে এবং অভিভাবকরাও উৎসাহ পাবেন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ জাতি গঠন সম্ভব। পাশাপাশি তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা যাবে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ফজিলা-তুন-নেসা মালিক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিভাগের কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। এছাড়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি খন্দকার আব্দুল আউয়ান রিজভী এবং পরিচালক অধ্যাপক মো. ইউনুছুর রহমান বক্তব্য দেন।










