ভাষাসংগ্রামী, কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ আহমদ রফিকের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন)।

আজ শুক্রবার পৃথক শোকবার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

শোক বার্তায় সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, ভাষা আন্দোলনের একজন অগ্রণী সংগ্রামী সৈনিক হিসেবে আহমদ রফিক আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে এক অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি সমাজচিন্তায়, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তার অবদান ছিল অনন্য। তিনি আজীবন মুক্তচিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও প্রগতির পক্ষে কলম চালিয়েছেন এবং প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

শারমীন মুরশিদ বলেছেন, আহমদ রফিকের প্রয়াণে জাতি এক সত্যিকারের জ্ঞানী মানুষকে হারাল। তবে তার চিন্তা, কর্ম এবং আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দিক-নির্দেশনা জোগাবে।

পৃথক শোকবার্তায় শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, আহমদ রফিক দেশের মহান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং আজীবন বাংলাভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করেছেন। তার জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য তার অবদান জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তিনি আরো বলেন, আহমদ রফিক ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তমনা সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে কবি, প্রবন্ধকার ও গবেষক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করে।

শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন চিকিৎসক। সাহসী ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক আজীবন মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মনে করে, আহমদ রফিকের প্রজ্ঞা, লেখনী ও চিন্তাধারা জাতির সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১২ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক। তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।