বরিশালের হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মানুষের জেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এ সড়কের ২০ কিলোমিটার অংশ। এতে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এ সড়কে চলাচলকারী মুলাদী-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মানুষ। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এ তিন উপজেলাবাসী।
বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জানায়, বরিশাল নগরীর নতুন বাজার থেকে লাকুটিয়া হয়ে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট পর্যন্ত সড়কটি ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর মধ্যে বরিশাল নগরীর অংশে তিন কিলোমিটার, বরিশাল সদর উপজেলা অংশে আট কিলোমিটার এবং বাকি সড়ক বাবুগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের আওতাধীন। বরিশাল নগরী অংশের তিন কিলোমিটার মোটামুটি ভালো হলেও বাকি সড়ক একেবারেই যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী।
সর্বশেষ বরিশাল সদর উপজেলা ও বাবুগঞ্জ উপজেলাধীন অংশের সড়ক সংস্কার করা হয় ২০১২-১৩ অর্থবছরে। এরপর বাবুগঞ্জ অংশের পুনরায় সংস্কার করা হয় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে। এর পর থেকে এ সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
খানাখন্দে ভরা গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি একেবারে বেহাল। যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ছোট ছোট যানবাহন কাত হয়ে পড়ে আহত হচ্ছে যাত্রী ও চালক। পঙ্গু হয়েছে কেউ কেউ। প্রাণও হারিয়েছে অনেকে।
এ সড়কের যাত্রী মুলাদীর ব্যবসায়ী মো. সজিব আজহার বলেন, সড়কটির খুবই খারাপ অবস্থা। চলাচলের মতো অবস্থা নেই। বিশেষ করে বর্ষাকালে একেবারে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়।
এ সড়কের বরিশাল অংশের বাসিন্দা কাজী মসিউর রহমান রনি জানায়, স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের বরিশালে যাতায়াতের একমাত্র পথ এ সড়ক। অথচ সড়কটি দিয়ে চলতে গিয়ে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ সড়ক দিয়ে চলাচল খুবই মুশকিলের ব্যাপার। গাড়ি উল্টে যায়। দুর্ঘটনা ঘটে। কিছুদিন আগে একটি গাড়ি উল্টে একজন মারা গেছে। এ সড়ক দিয়ে এখন আর যাতায়াত করার মতো পরিস্থিতি নেই।
ভ্যানচালক মো. নুরুজ্জামান জানান, এ সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। প্রায়ই গাড়ি উল্টে যায়। পাঁচ-সাত বছর ধরে সড়কের একই হাল দেখছেন তারা। অটোচালক রহিম হাওলাদার জানান, এ সড়কে ভ্যান চালাতে নানা সমস্যায় পড়েন তারা। প্রায়ই ভ্যানের চাকা বাঁকা হয়ে যায়। ভ্যানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভেঙে যায়।
মোটরসাইকেলচালক কাজী পলাশ জানান, নতুন বাজার থেকে লাকুটিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কে খুই সমস্যা। প্রসূতি নারী ও রোগীদের এ রাস্তা দিয়ে নিয়ে গেলে তারা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এজন্য একবার সংস্কার করলে যাতে পাঁচ-সাত বছর অনায়াসে রাস্তা ভালো থাকে, সেই দাবি জানান পলাশ।
সড়কটির বেহাল দশার বিষয়ে আলাপকালে বরিশালের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো. জামাল উদ্দিন বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।










