নোয়াখালীর সুবর্ণচরে উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জন–অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে এ অধিবেশনের আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান)।
আজ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্থানীয় মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া আফসার সায়মা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। সভাপতিত্ব করেন প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব গোলাম কিবরিয়া।
ইউনিয়ন সচিব গোলাম কিবরিয়া চলতি অর্থবছরের ৫ কোটি ১ লাখ ৯৬ হাজার ২০০ টাকার বাজেট ও আগামী অর্থবছরের ৫ কোটি ৬৮ লাখ ১২ হাজার ২০০ টাকার বাজেট উন্মোচন করেন। তিনি বলেন, ‘কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেচ, রাস্তা মেরামত ও খাল সংস্কারসহ সব উন্নয়ন খাতে সুষম বন্টন নিশ্চিত করতে হবে।’
সভায় বক্তারা বলেন, ইউনিয়নে মোট ৪৮টি বাজার থাকলেও বাজেট ঘাটতির কারণে উন্নয়ন সীমিত। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়, উন্নয়নের গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
প্রধান অতিথি রাবেয়া আফসার সায়মা বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য খাল খনন, কালভার্ট নির্মাণ ও রাস্তা সংস্কারে গুরুত্ব দিতে হবে।’ তিনি সুবর্ণচরের বিভিন্ন প্রধান রাস্তাসহ বেড়িবাঁধের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, বাজেট যেন সব এলাকায় সমানভাবে বন্টিত হয়। জলাবদ্ধতা, খাল খনন ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা প্রাধান্য পাবে।
বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট-দুই সমস্যা সমাধানে খাল সংস্কার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থায় বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। আর অবৈধভাবে দখল হওয়া খাল পুনরুদ্ধারের আহ্বান কৃষক নেতাদের।
সমাজসেবকরা মেঘনা খালের সংস্কারের গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি বক্তারা প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন।
সভা শেষে সবাইকে স্থানীয় উন্নয়নের কাজে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।










