আমদানির
অনুমতি দেওয়ার পরও কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে
আসছে না কাঁচা মরিচের দাম। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমের অজুহাতে দিনাজপুরের হিলিতে
আবারো একদিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে দ্বিগুণ
হয়েছে। একদিন আগেও যা ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল তা এখন বেড়ে ৫০০ টাকা কেজিতে দাঁড়িয়েছে। এদিকে কাঁচা মরিচের দাম
বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
শুক্রবার (৩৯ জুন) সরেজমিন হিলির বাজার ঘুরে দেখা
গেছে, অধিকাংশ দোকানেই মিলছে না কাঁচা মরিচ। তবে দুয়েকটি দোকানে অল্প
পরিমাণ কাঁচা মরিচ দেখা গিয়েছে। দোকানদাররা বলছেন, বাড়তি দামের কারণেই
দোকানে কাঁচা মরিচ তুলছেন না তারা।
ক্রেতাদেরও দেখা যাচ্ছে কাঁচা মরিচ কেনা এড়িয়ে চলতে।
হিলি বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে আসা মিরাজুল ইসলাম বলেন, কাঁচা মরিচের দামে কোনো
নিয়ন্ত্রণ নেই। যে যেমনভাবে পারছে দাম
বাড়িয়ে চলছে। কাঁচা মরিচের দাম যদি এত বেশি হয়, আমরা সাধারণ মানুষ কিনে খাব
কী করে? বাধ্য হয়ে এখন কাঁচা মরিচ খাওয়াই বাদ দিতে হবে।
বাজারে আসা
নাসরিন সুলতানা বলেন, সীমিত আয় দিয়ে আমাদের
হিসাব করে চলতে হয়। আগে যেখানে কাঁচা মরিচ এক কেজি
বা হাফ কেজি কিনতাম এখন তা অসম্ভব হয়ে গেছে। দামের মতো
আমাদের আয় তো আর বাড়ে না। এখন ১২৫ গ্রাম কিনেছি। সামনে হয়তো খাওয়াই ছেড়ে দিতে হবে। এ ছাড়া তো আমাদের মত মানুষের কিছু
করার নেই।
হিলি
বাজারের কাঁচা মরিচ বিক্রেতা মমতাজ হোসেন বলেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি বন্ধ থাকলেও দেশীয় কাঁচা মরিচ দিয়েই মানুষের
চাহিদা মিটছিল। কাঁচা মরিচের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে চলা খরার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঁচা মরিচের ক্ষেত
নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এর উৎপাদন ব্যহত হয়েছে। এর ওপর আবার ঝড়বৃষ্টির কারণে এর মাত্রা
আরো বেড়েছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকাই দাম বাড়ার কারণ।
এছাড়া ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হলেও বাজারে এর
প্রভাব পড়েনি বলে জানান মমতাজ হোসেন।
এই ব্যবসায়ী জানান,
ঈদের আগে ২০০ টাকা কেজিতে কিনে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করতেন তারা। এখন কাঁচা মরিচ
কিনতেই যাচ্ছে ৪০০ টাকা। এর ফলে ৫০০ টাকা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
তবে
আবহাওয়া ভালো হলে এবং আমদানি বাড়লে কাঁচা
মরিচের সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।
হিলি
স্থলবন্দরের কাঁচা মরিচের আমদানিকারক আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ২৫ জুন ভারত থেকে কাচামরিচ আমদানির অনুমতি (আইপি)
দেয় সরকার। বন্দরের কয়েকজন আমদানিকারক বেশ কয়েক হাজার টন কাঁচা মরিচ আমদানির
অনুমতি পান। সেই মোতাবেক ২৬শে জুন, দশ মাস পর ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়। আমদানিকৃত এসব কাঁচা মরিচ বন্দরে ২০০ থেকে ২২০ টাকায় পাইকারি বিক্রি হয়। তবে ঈদের ছুটির কারণে মাত্র একদিনই
আমদানি করা গিয়েছে। ঈদের ছুটি শেষ হলে আবার আমদানি করা হলে দাম কমতে পারে।
তবে
বর্তমানে ভারতের মোকামেই কাঁচা মরিচের দাম বেশি বলে জানান আমদানিকারক
আনোয়ার হোসেন। তার ওপর আবার রফতানি শুরু হওয়ার কেজিতে আরো ২০ টাকা বেড়েছে। তার
ওপর প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ দেশে আনতে শুল্ক দিতে হচ্ছে ৩৫ টাকা। সব মিলেয়ে আমদানি করেও
কমদামে বিক্রির সুযোগ থাকছে না।
হিলি
স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, অনুমতি না থাকায় দীর্ঘ ১০ মাস বন্ধ ছিল কাঁচা মরিচ আমদানি।
তবে গত ২৬ জুন হিলি বন্দর দিয়ে ৫ ট্রাকে ২৭ হাজার ১৬৬ কেজি কাঁচা মরিচ
আমদানি হয়। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা ২৭ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত আমদানি
বন্ধ রেখেছে। ৩ জুলাই আবার আমদানি শুরু হলে বাজারে এর প্রভাব পড়বে।









