ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রতারণার মাধ্যমে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎকারী একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পূর্ব ইউনিটের একটি অভিযানকারী দল। গ্রেফতাররা হলেন মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তার এবং মো. আব্দুল্লাহ মিয়া।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চক্রটি ফেসবুক পেজে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে দুরারোগ্য রোগসহ নানা সমস্যার চিকিৎসার কথা বলে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করত। বিজ্ঞাপন দেখে কেউ যোগাযোগ করলে তাকে নানা ধরনের সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেয়া হতো। পরে কথিত কবিরাজরা চিকিৎসার কথা বলে ভুক্তভোগীর বাসায় গিয়ে বিভিন্ন ঝাড়-ফুঁক ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করত। এক পর্যায়ে চিকিৎসার অংশ হিসেবে বাসায় থাকা সোনা-গয়না একসঙ্গে করতে বলা হতো। এরপর স্বর্ণালংকারগুলো রুমালে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখা এবং সেই পানি পুরো ফ্ল্যাটে ছিটানোর মতো নানা কৌশলে চিকিৎসা চালানো হতো। এ সময় ভুক্তভোগীর দৃষ্টি অন্যদিকে থাকার সুযোগে কৌশলে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যেত চক্রের সদস্যরা।

সিআইডি জানায়, এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে একজন ভুক্তভোগী শাহজাহানপুর (ডিএমপি) থানায় মামলা রুজু করেন। সিআইডি মামলাটির তদন্ত ভার গ্রহণ করার পর বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে। একই সঙ্গে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ফেসবুক পেজ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২ টার দিকে সুনামগঞ্জের ছাতক থানাধীন ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় জিয়াসমিন আক্তারের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে একটি স্বর্ণের আংটি এবং লকেটসহ স্বর্ণের চেইন জব্দ করা হয়। জব্দ স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ২১.৮৩ গ্রাম, যার আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য চার লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. আব্দুল্লাহ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই প্রতারণার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। সংস্থাটি জানিয়েছে, তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং আত্মসাৎকৃত অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধারের চেষ্টা চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।