তিনি বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসকের সংকট দূর করে এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে চিকিৎসার অভাবে কোনো মানুষ প্রাণ হারাবে না। চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নের সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা দেশের অন্যতম মেধাবী। মেধার পাশাপাশি তাদের মানবিক মন রয়েছে বলেই অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করার মধ্যেই তাদের আত্মত্যাগ, আত্মতৃপ্তি, জীবনের সার্থকতা ও সফলতা নিহিত।’

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্বের সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। আরো ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল কবির ও ট্রেজারার ডা. আবু মো. মোফাখখারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. কেএম মজিবুল হক।

ডা. জুবাইদা বলেন, ‘দেশে একজন চিকিৎসককে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ জন রোগীর সেবা দিতে হয়। গ্রামাঞ্চলে এ অনুপাত আরো বৈষম্যপূর্ণ। সরকারি চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে প্রতি ছয় হাজারের অধিক মানুষের জন্য রয়েছেন মাত্র একজন চিকিৎসক। এ কারণেই চিকিৎসা ব্যয় এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ। দেশের ৭০-৭৫ শতাংশ চিকিৎসক শহরাঞ্চলে কর্মরত, অথচ ৭৮ শতাংশ মানুষ বাস করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকায়। শিক্ষাজীবন থেকেই দেশসেবার সংকল্প নিয়ে এগিয়ে এলে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।’

মেধা, শ্রম, অধ্যবসায় ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তরুণ চিকিৎসকদের সবার কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান ডা. জোবাইদা রহমান। তিনি বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসকের অভাবে মানুষ সময়মতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়। তবে দেশসেবার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে গেলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। আগামী বাংলাদেশে যেন চিকিৎসার অভাবে কোনো গ্রামবাসী প্রাণ না হারায়, কোনো অন্তঃসত্ত্বা মাকে হারাতে না হয় এবং কোনো নবজাতক যেন মায়ের কোল খালি করে চলে না যায়।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন, সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে ডা. জুবায়দা রহমান তার মেধা, মনন ও কর্মের মাধ্যমে অবদান রেখে চলেছেন।’