বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে বিআইএসআর নামের একটি প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে কারখানার কাঁচামাল, উৎপাদিত পণ্য, মেশিনপত্র ও অন্য আসবাবপত্রসহ প্রায় ৩৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির মালিকের।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতরা হলেন বেলাল (৪৩), সিয়াম (১৩), শাজাহান (২৪), বিজয় (১৪) ও আব্দুল খালেক (৩৫)। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার হবির মোড়ে অবস্থিত এ কারখানার মালিক সান্তাহার পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টো। বিআইআরএস প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের কারখানাটিতে ওয়ান টাইম প্লেট, গ্লাস ও অন্যান্য সরঞ্জাম তৈরি হয়। গতকাল সকালে ৪৫ শ্রমিক ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করে কারখানায় আগুন লাগে। নওগাঁ ও আশপাশের বিভিন্ন ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। এতেও আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় বগুড়া থেকে আরো চার ইউনিট এতে যোগ দেয়। প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

দীর্ঘ চেষ্টার পর প্লাস্টিক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান আদমদীঘি থানার ওসি জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে বগুড়া ও নওগাঁ জেলার বেশকিছু ইউনিট একযোগে প্রায় ২ ঘণ্টা কাজ করে আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়।

আদমদীঘি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন জানান, সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুত কারখানায় গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আগুন ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেখানে নওগাঁ ও বগুড়া থেকে আলাদা ইউনিট এসে একযোগে কাজ করে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। আগুন নেভানোর পর কারখানার ভেতরে পাঁচজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু বলেন, সকালে ৪৫ শ্রমিক ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু করেন। হঠাৎ বেলা সাড়ে ১১টায় মেশিন চলা অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হয়। মেয়র দাবি করেন, আগুনে ২০ কোটি টাকার মেশিনসহ প্রায় ৩৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের এডি আবদুল মালেক বলেন, বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টাব্যাপী ফায়ার সার্ভিসের বগুড়া ও নওগাঁর ১৩টি ইউনিট কাজ চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ফ্যাক্টরির ভেতর থেকে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া পাঁচ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাত্ক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন শেষে এ কমিটি গঠন করেন। গতকাল রাতে বগুড়ার জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক এ তথ্য জানান। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সালাউদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কলকারখানা পরিদর্শক ও ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।