খুলনার কয়রা উপজেলা সদর-কয়রা বাজারের এক ব্যবসায়ীকে থানায় ডেকে নিয়ে মারধরের অনির্দিষ্টকালের জন্য সব দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিবাদে রোববার (১০ মে) সকাল থেকে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কয়রা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জুলফিকার আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘কয়রা বাজারের ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী মো. আসাদুল্লাহকে থানায় ডেকে নিয়ে মারধরের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আসাদ খুবই নিরীহ ও ভদ্র ছেলে। তাকে এভাবে হেনস্তা করার ঘটনায় ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ।
মো. আসাদুল্লাহ বলেন, তিনি শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়রা কাঁচাবাজারে যান। বাজার শেষে এসে দেখেন, তার মোটরসাইকেলের পাশে আরেকটি মোটরসাইকেল এমনভাবে রাখা হয়েছে যে বের হতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি চালককে গাড়িটি একটু সরাতে অনুরোধ করেন। পরে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি কয়রা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজলুর রহমান।
আসাদুল্লাহ বলেন, অনুরোধ করার পরও ওই পুলিশ কর্মকর্তা তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের চাবি খুলে নিয়ে দোকানের ভেতরে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে চাবি ফেরত দিয়ে ‘পরে দেখে নেয়া হবে’ বলে হুমকি দেন।
আসাদুল্লাহর অভিযোগ, সন্ধ্যার দিকে এএসআই (সহকারী উপপরিদর্শক) আকাশ পরিচয় দেয়া এক ব্যক্তি ফোন করে তাকে ও তার বাবাকে দ্রুত থানায় উপস্থিত হতে বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি সন্ধ্যা সাতটার দিকে থানার সামনে পৌঁছালে এসআই ফজলুর রহমান ও এএসআই আকাশ আমাকে মারতে মারতে থানার ভেতরে নিয়ে যান।’
পরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে নেয়া হলে থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা (সেকেন্ড অফিসার) বিষয়টি শুনে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তার আচরণের সমালোচনা করেন। তার বাবা ছেলেকে মারধরের বিচার দাবি করলে ওসি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন এসআই ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ঘটনাটি একটি ভুল-বোঝাবুঝি ছিল, যা পরে মীমাংসা হয়ে গেছে। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
কয়রা থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, কয়রা উপজেলা সদর-কয়রা বাজারে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। পুলিশের অভিযুক্ত দুজনকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদেরও বাজার বন্ধের কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।










