বরিশাল সদর উপজেলা কমপ্লেক্সে ব্যানার খোলাকে কেন্দ্র করে ইউএনওর ওপর হামলার চেষ্টাকালে আনসার সদস্যদের গুলি ও পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ ৩০ জন আহত হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহও আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে মেয়র দাবি করেছেন। আহতদের মধ্যে তিন পুলিশ ও দুই আনসার সদস্য রয়েছে। বুধবার রাত ১১টার পর বরিশাল সদর উপজেলার ইউএনও মুনিবুর রহমানের ওপর হামলার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও ইউএনও বাদী হয়ে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে প্রধান আসামি করে দুটি মামলা করেছেন। দুটি মামলায় অন্তত ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে মেয়র অনুসারী নেতাকর্মীরা বুধবার রাত থেকে নগরীর রূপাতলী ও নথুল্লাবাদ টার্মিনাল এলাকায় বাস ফেলে রেখে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে। একই সঙ্গে গতকাল সকাল থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় লঞ্চ চলাচল। পরে প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক শেষে দুপুর ১২টার পর বাস-লঞ্চ চলাচল শুরু হয়।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকনের বক্তব্য অনুযায়ী, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় কম্পাউন্ডে রাতে শোক দিবস উপলক্ষে টানানো ব্যানার খুলতে যায় নগর ভবনের কর্মচারীরা। এ সময় বাসভবন থেকে বের হয়ে উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ড থেকে ব্যানার খোলার কারণ জানা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমানের সঙ্গ সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসের কথা কাটাকাটি হয়। উপজেলা কমপ্লেক্সে ইউএনওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন আনসার সদস্য জানান, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ব্যানার খোলার কথা বলে কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে ২৫-৩০ জন। তারা ইউএনও স্যারকে ঘিরে ফেলে। তাকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে আনসারদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় আনসার সদস্যরা গুলি ছোড়ে। এতে দু-তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যান সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। খবর শুনে কয়েকশ নেতাকর্মীও জড়ো হয় সেখানে। তাদের নিয়ে মেয়র উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরে ঢুকতে গেলে দ্বিতীয় দফায় ভেতর থেকে গুলি ছোড়ে আনসার সদস্যরা। গুলির মুখে ভেতরে ঢুকতে না পেরে কমপ্লেক্সের বাইরে অবস্থান নেন মেয়র সাদিক। ছাত্রলীগ কর্মীরা এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধসহ একটি বাস ভাংচুর করে। পরে মেয়র ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এ সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত হয় ৩০ জন। এক পর্যায়ে পিছু হটে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান বলেন, রাত সাড়ে ১০টায় ৮-১০টি মোটরসাইকেলে করে ১৫-২০ জন উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে ঢুকে ঘোরাফেরা করছিল। আমি তাদের এখানে আসার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা জোর করে আমার ঘরে ঢুকে পড়ে। পরে আনসার সদস্যরা তাদের বের করে দেয়। কিছুক্ষণ পরে ৬০-৭০ জন যুবক হঠাৎ করে আমার বাসার ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং দোতলায় উঠে আসে। আমি জানতে চাইলে মাহমুদ হাসান বাবু এবং আরেকজন সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত নামের দুজন নিজেদের আওয়ামী লীগ নেতা বলে পরিচয় দেন। তারা আমাকে উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আনসার সদস্যরা আমার প্রাণ বাঁচান।

রাত সাড়ে ৩টায় সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তার বাসভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে করে বলেন, আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। এদিকে এ ঘটনায় পুলিশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। অন্যদিকে গতকাল বিকালে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে।