বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈদেশিক ভাতা বাড়িয়েছে সরকার। তিন ক্যাটাগরিতে ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে ভাতা। যা কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি থেকে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বের ৬০ দেশে বাংলাদেশের মোট ৮২টি মিশন রয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের ভিত্তিতে এখন থেকে সকল মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা বৃদ্ধি পাবে। দেশের ভেতরে বেতন-ভাতার যে হার বিদ্যমান, তা দিয়ে বিদেশে খরচ মেটানো সম্ভব হয় নয় বলে এ বৈদেশিক ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতদিন এ খাতে সরকারের ব্যয় হতো ১৬৪ দশমিক ৩৭ কোটি টাকা। এখন ব্যয় বাড়বে ৩৩ দশমিক ২৭ কোটি টাকা।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করেন অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। পরে রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বৈদেশিক ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান। চিঠিতে বৈদেশিক ভাতা ও আপ্যায়ন ভাতা ১০০ শতাংশ এবং শিক্ষা ভাতা ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি অনুরোধ জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বৈদেশিক ভাতা সংক্রান্ত এ আদেশ কার্যকরের পর পূর্বের সকল আদেশ বাতিল হবে। এখন থেকে সকল ব্যয় মার্কিন ডলারে পরিশোধ করা হবে। এছাড়া ২০১২ সালে নির্ধারিত আপ্যায়ন ভাতার হার অপরিবর্তিত থাকবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, বৈদেশিক, আপ্যায়ন ও শিক্ষা ভাতা পুন:নির্ধারণের যৌক্তিকতা দেখে বিশ্বব্যাপী মূল্যাস্ফীতি বিবেচনা করে প্রতি পাচঁ বছর পর পর মিশনে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈদেশিক ও আপ্যায়ন ভাতা বৃদ্ধির কথা থাকলেও গত ১২ বছরে বাড়ানো হয়নি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবচেয়ে কম ভাতা পান। বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও কভিড মহামারির কারণে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা বিদেশে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এছাড়া মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য ২০১২ সালে নির্ধারিত শিক্ষা ভাতা যথেষ্ট নয়।
এখন থেকে ৬০টি দেশে থাকা বাংলাদেশের মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তিন ক্যাটাগরিতে ভাতা পাবেন। তারমধ্যে এ ক্যাটাগরির দেশের মিশনের জন্য ৩০ শতাংশ, বি ক্যাটাগরির ২৫ শতাংশ এবং সি ক্যাটাগরির দেশের মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা ২০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।










