পোশাক কেনার ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে তরুণ প্রজন্মের পছন্দে। নতুন পোশাক কেনার আগে এখন পুরনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড পোশাকের বাজারে খোঁজ করছেন জেনারেশন জি (জেনজি)। যুক্তরাষ্ট্রে প্রজন্মটির ৬৪ শতাংশ ক্রেতা নতুন পোশাক কেনার আগে সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্য খোঁজেন বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। খবর রিটেইল বস।
তরুণদের এ প্রবণতায় দ্রুত বাড়ছে পুরনো পোশাকের বাজার। প্রচলিত খুচরা পোশাক বিক্রির তুলনায় বাজারটির প্রবৃদ্ধি পাঁচ গুণ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান থ্রেডআপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সেকেন্ড হ্যান্ড পোশাকের বাজারের আকার দাঁড়াবে ৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোক্তাদের এ পরিবর্তন শুধু কম দামে পোশাক কেনার প্রবণতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পরিবেশ সচেতনতা, পণ্যের পুনর্ব্যবহার ও কেনা পোশাক পরে আবার বিক্রি করার সুযোগের কারণেও বাজারটির প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে নতুন পোশাকের পাশাপাশি এখন খুচরা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে ব্যবহৃত পোশাকও।
থ্রেডআপের তথ্যানুযায়ী, জেনজির পোশাকের আলমারিতে থাকা গড়ে প্রতি পাঁচটি পোশাকের দুটি সেকেন্ড হ্যান্ড দোকান বা থ্রিফট শপ থেকে কেনা। এ প্রজন্মের ৮২ শতাংশ ক্রেতা নতুন পোশাক কেনার সময় সেটি পরে আবার বিক্রি করা যাবে কিনা, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বজুড়েই বাড়ছে ব্যবহৃত পোশাকের কেনাবেচা। ২০২৯ সালের মধ্যে বৈশ্বিক সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্যের বাজারের আকার ৩৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। সামগ্রিক পোশাকের বাজারের তুলনায় এ খাতের প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৭ গুণ বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাকের মোট বাজারে সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্যের হিস্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৮ শতাংশে। বিপরীতে ফাস্ট ফ্যাশনের বাজার হিস্যা ৯ শতাংশে স্থির থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে পুরনো পণ্য কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসাও। যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গুডউইল ইন্ডাস্ট্রিজ ২০২৫ সালে আয় করেছে ৭০০ কোটি ডলার। ১২৩ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ আয়। ওই বছর প্রতিষ্ঠানটি ৩০ কোটি লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের পাশাপাশি ৪৫ কোটি ডলার আয় করেছে অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে।










