এ পরিকল্পনার মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষাকে বৈশ্বিক মান, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মতবিনিময় করেন। সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উচ্চ শিক্ষাকে কাঙ্ক্ষিত মানে উন্নীত করতে ইউজিসির নেতৃত্ব আরো কার্যকর ও গতিশীল করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল উচ্চ শিক্ষা সংস্কারের অভিজ্ঞতা ও কার্যকর দিকগুলো বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।’

বিশেষ করে বিদেশী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চ শিক্ষার গন্তব্যে পরিণত করতে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি। এ লক্ষ্যে চীন, যুক্তরাজ্য মালয়েশিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানান, দেশের উচ্চ শিক্ষাকে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা ও শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এ দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মপরিকল্পনায় পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়। এগুলো হলো স্নাতকদের কর্মসংস্থান যোগ্যতা বৃদ্ধি ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় শিল্প খাত সহযোগিতা জোরদার, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, শিক্ষক উন্নয়ন এবং গবেষণার উৎকর্ষ ও আন্তর্জাতিকীকরণ।

ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই), ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) ও ডিজিটাল প্রশাসন চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে গবেষণা প্রকাশনা ও পেটেন্টের সংখ্যা দ্বিগুণ করা এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও এতে রয়েছে।

খসড়া চূড়ান্ত করতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ইউজিসির সদস্যদের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।