নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি পেলে নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরতে, হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে এবং ঘরের মাঠে বিদায়ী সিরিজ খেলতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে (বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি) শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন তিনি।
শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলার সময় রয়টার্সকে দেয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, সরকার থেকে যদি আমার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বা ক্লিয়ারেন্স দেয়া হয়, তাহলে আমি দেশে ফিরে আদালতের বিচার প্রক্রিয়া ও যা যা করণীয় সবকিছু করতে প্রস্তুত। আমি জানি আমি কোনো অপরাধ করিনি।
সাকিব জানান, তিনি অবিলম্বে দেশে ফিরতে চান। তবে তা সম্ভব না হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ক্যাপ্টেন যা বলবেন, আমরা তাই করব। আমি মনে করি ওনারাই সেরা সিদ্ধান্ত নেবেন এবং আমরা সে নির্দেশনা মেনে চলব।
গত বুধবার ভারতের নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সাকিব জানান, সেখানে তিনি কেবল দেশের শান্তি ও অগ্রগতির আহ্বান জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। এদিকে তার ওই সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হওয়ার পরই বাংলাদেশে তার বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
সাকিব জানান, আইনজীবীর মাধ্যমে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হলেও কোনো সাড়া পাননি। দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী বলেও জানান।
দেশে ফেরার অতীত চেষ্টা সম্পর্কে সাকিব জানান, ২০২৪ সালের শেষের দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আশ্বাসে তিনি দেশের উদ্দেশে বিমানে উঠলেও ফ্লাইটে থাকা অবস্থাতেই তাকে ফিরে যাওয়ার জন্য বলা হয়। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে দুবাই থেকে আবার নিউইয়র্কে ফিরে যান।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর কারণে সরকার তার দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় বলে অভিযোগ করেন সাকিব। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখলে দেশে ফেরা সহজ হতে পারে—এমন পরামর্শ নাকচ করে সাকিব স্পষ্ট জানান, এমন কোনো চিন্তা করার প্রশ্নই ওঠে না।
বর্তমানে নিজের বিরুদ্ধে দুটি মামলা সক্রিয় রয়েছে বলে জানান সাকিব। একটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় একজন নিহত হওয়ার ঘটনায়, অন্যটি দুর্নীতির অভিযোগে। হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি হাস্যকর একটি মামলা। যেদিন ঘটনাটি ঘটেছে, সেদিন আমি টরন্টোতে খেলছিলাম। তিনি জানান, এখনো এ মামলায় তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেননি।
এছাড়া গত দেড় বছর ধরে তার সব ব্যাংক হিসাব স্থগিত রাখা হয়েছে উল্লেখ করে এ ক্রিকেটার বলেন, যে খেলোয়াড় গত ১০ বছর ধরে সর্বোচ্চ কর দিয়ে আসছে, তদন্তের নামে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দেড় বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে। তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য আমি দিতে রাজি, কিন্তু কিছু না পাওয়া গেলে তা অবিলম্বে সচল করা উচিৎ।
তিনি আরো জানান, গত দুই বছরে তিনি বাংলাদেশে থাকা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এমনকি তার বাবা-মাও দেশ ছাড়তে পারেননি।










