রাজশাহীর বাঘায় নাজমুল হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে হত্যার দায়ে ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বাঘা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মিন্টু আলী (৩৫), মো.
রানা (২১), মো.
পানা (২৫), আরিফ
হোসেন (২৫), শরিফ
হোসেন (২২) ও নাটোরের লালপুর উপজেলার মণিহারপুর গ্রামের আরজেদ আলী ওরফে ভোলা (৪৭)। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন আরো ১৭ আসামি। এছাড়া এ মামলায় প্রধান আসামি মো. সুমনসহ চারজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে তাদের বিচার চলছে।
মামলার বিবরণ দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু জানান, বাঘা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের নবম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করত নাটোরের লালপুর উপজেলার মণিহারপুর গ্রামের আরজেদ আলীর ছেলে সুমন।
২০১৯ সালের শেষের দিকে সুমন সেনাসদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে যাওয়ার আগেই ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি সুমন বন্ধুদের নিয়ে ওই ছাত্রীকে পথ আটকে ফের প্রেমের প্রস্তাব দেন। ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি স্বজনদের জানায়।
পরে ছাত্রীর নানা আজিজুর রহমান সুমনের বাবা-মায়ের কাছে বিচার দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুমন ওই দিন বিকালে পাশের বাঘা উপজেলার সুলতানপুর পূর্বপাড়া মোড়ে দলবল নিয়ে আজিজুরের ছেলে নাজমুল হোসেন ও নাতি তারিকুল ইসলাম তুষারকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে আহত করে। পরে নাজমুলকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ নিয়ে বাঘা থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা আজিজুর।
এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিল ২৩ জন। পুলিশ তদন্ত করে আরো চারজনকে শনাক্ত করে। পরে ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে প্রধান আসামি মো. সুমনসহ চারজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তাদের বিচার চলছে শিশু আদালতে। অন্য ২৩ জনের বিচার শেষ হলো রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।










