মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় আসামিকে ব্যতিক্রমী দণ্ড দিয়েছেন রাঙ্গামাটির একটি আদালত। দণ্ডে আসামীকে জেল হাজতে না পাঠিয়ে নিজের পরিবারের সঙ্গেই থাকার রায় দেয়া হয়। তবে পরিবারের প্রতি যত্নশীল হতে, ১০০টি গাছ লাগাতে ও নিজ উপজেলায় মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানোর শর্ত দেয়া হয়েছে। আসামি দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার বিষয়ে এমন রায় দেন রাঙ্গামাটির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক শিপলু কুমার দে। আজ রোববার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি লিটন চাকমা জেলার নানিয়ারচর উপজেলার ৩ নম্বর বুড়িঘাট ইউনিয়নের বগাছড়ি সুরিদাশ পাড়ার বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আদালতের বিচারাধীন জিআর মামলায় অভিযুক্ত আসামি লিটন চাকমাকে (৩৯) ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬ (১) সারণির ১৯ (ক) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে জানা যায়, আসামি একজন কৃষক ও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এর আগে তার অপরাধের কোনো রেকর্ড না থাকায় এবং তিনি কোনো অভ্যাসগত অপরাধী না হওয়ায় প্রথম অপরাধ বিবেচনায় তাকে কারাগারে দাগী আসামিদের সংস্পর্শে না রেখে সমাজে অবস্থান করে সংশোধন হওয়ার সুযোগ দেন আদালত। এজন্য তাকে জেল হাজতে পাঠানোর পরিবর্তে শর্তসাপেক্ষে প্রবেশন কর্মকর্তার অধীনে ১ বছরের প্রবেশন দণ্ড দেয়া হয়।
প্রবেশনের শর্তাগুলো হলো- লিটন চাকমা আগামী এক বছরের জন্য প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে থাকবেন এবং তার নির্দেশনা মেনে চলবেন। এ সময়ে আসামি কোনো অপরাধ করবেন না, শান্তি বজায় রাখবেন, সদাচরণ করবেন এবং আদালত, প্রবেশন অফিসার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যখন যেখানে তলব করবে সেখানে যথাসময়ে উপস্থিত হবেন। এ সময়কালে আসামি পরিবারের নির্ভরশীলদের প্রতি যত্নশীল হবেন এবং পারিবারিকবন্ধন বজায় রাখবেন; প্রবেশন কর্মকর্তার অনুমতি না নিয়ে তিনি পেশা ও বাসস্থান পরিবর্তন করতে পারবেন না। আসামিকে সব সময় কোর্টের স্থানীয় অধিক্ষেত্রের মধ্যে নির্দিষ্ট বাসস্থান বা পেশায় থাকতে হবে; দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাদক সেবন ও বিক্রি করতে পারবেন না। মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মেলামেশা করবেন না; প্রবেশনকালীন সময়ে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে তার নিজ উপজেলায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মন্দিরে বিভিন্ন প্রজাতির ১০০টি বৃক্ষরোপন করবেন এবং নিজ উপজেলায় প্রতি হাট-বাজারে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে মাদক বিরোধী প্রচারণা করে জনগণকে মাদকের ভয়াভবহতা সম্পর্কে সচেতন করবেন।
আদালতের আদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রবেশনের শর্ত ভঙ্গ করলে আসামিকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হবে।










