পারিবারিক পিকনিকে গিয়ে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে
ডুবে মারা গিয়েছেন এক দম্পতি। তারা হলেন ব্যাংক কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন কাদের রূপম
(৩৮) ও তার স্ত্রী মানজুরি তানভীর নিশি (৩২)। গতকাল শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরের
দিকে জেলার গোদাগাড়ী পৌর এলাকার সুলতানগঞ্জ সংলগ্ন পদ্মায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সালাহউদ্দিন কাদের রূপম গোদাগাড়ী পৌর
এলাকার শ্রীমন্তপুর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের কিশোরগঞ্জ শাখায়
কর্মরত ছিলেন। আজ শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার
সার্ভিসের ডুবুরিরা।
এদিকে মানজুরি তানভীর নিশিকে ঘটনার পরপরই
মাঝিদের সহায়তায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর গোদাগাড়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হয়ে তাকে
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন স্বজনরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি।
পারিবারিক এ পিকনিকে উপস্থিত ছিলেন নিশির
ভাই আবদুস শামীম। তিনি জানান, এলাকাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালুগ্রামের সীমানায়।
পরিবারের ৪৫ জনের একটি দল নিয়ে দুটি বড় নৌকায় পদ্মার চরের পিকনিকে গিয়েছিলেন। দুপুরে
নদীর চরে বাবুর্চিরা রান্না করছিলেন। ওই সময় তারা পদ্মায় গোসলে নেমেছিলেন।
শামীম জানান, তিনি কেবল ভগ্নিপতি রূপমের ডাক শুনতে পান।
রূপম বলছিলেন, ‘ভাই বাঁচান, নিশি ডুবে গেছে, আমিও ডুবে যাচ্ছি।’ এরপর একজন মাঝিদের
নিশিকে টেনে তোলেন। রামেক হাসপাতালে নেয়ার পর নিশি মারা যান। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ
ছিলেন রূপম।
গোদাগাড়ী ফায়ার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন
অফিসার নমির উদ্দিন বলেন, প্রথমে ওই দম্পতির বাচ্চা ডুবে যাচ্ছিল। বাবা বাচ্চাকে উদ্ধার
করেন। এটা দেখে তার স্ত্রীও পানিতে নামেন। তারপর দুজনেই ডুবে যাচ্ছিলেন। তখন একজন মাঝি
তার স্ত্রীর চুল ধরে টেনে তোলেন। কিন্তু তার স্বামীকে আর ধরতে পারেননি।
নমির উদ্দিন আরো বলেন, নদীর মধ্যে বিভিন্ন
জায়গায় চর জেগেছে। তার পাশে কোথাও অল্প পানি, আবার কোথাও গভীরতা ৩০ থেকে ৪০ হাত। সেগুলো
চোরাবালির মতো গভীর হয়ে আছে। তাছাড়া ওই ব্যক্তি যে স্থানে ডুবেছেন ওই স্থানটি নিশ্চিত
হওয়া যায়নি। ফলে তারা শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ফিরে আসেন। শনিবার
সকাল আটটা থেকে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু করেন ডুবুরিরা। বেলা ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার
হয়।









