কৃষিসমৃদ্ধ সাতক্ষীরা জেলাকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে। সমতাভিত্তিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সাতক্ষীরার নাম অনুমোদন করেছে সরকার। জেলা প্রশাসনের পাঠানো প্রস্তাবে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণায় সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে গেল বলে মনে করছেন জেলার বিশিষ্টজনেরা।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, এ জেলার কৃষি, মৎস্য, ডেইরি শিল্প, টালী ইত্যাদি দেশী-বিদেশীদের নজর কেড়েছে। কৃষি ও শিল্পসমৃদ্ধ সাতক্ষীরা জেলার অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্যে গতি বৃদ্ধিসহ সাতক্ষীরার উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণে এ জেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে উপস্থাপন করা হয়। পরে তিনি তা অনুমোদন করেছেন।
অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠিত হলে কৃষি ও শিল্প ক্ষেত্রে অপরিসীম সম্ভাবনাময় সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্যে আরো গতি নিয়ে আসবে। সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক এরই মধ্যে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত করেছে নতুন সম্ভাবনা। বহুল প্রতীক্ষিত নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হলে সাতক্ষীরার জন্য সৃষ্টি হবে নতুন বাতায়ন। প্রস্তাবিত যশোর-সাতক্ষীরা রেললাইন স্থাপিত হলে সাতক্ষীরার ‘কানেকটিভিটি’তে যোগ হবে নতুন মাত্রা। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে সাতক্ষীরা।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণার ফলে উৎপাদিত পণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার যেমন বিস্তৃত হবে, তেমনি বৈদেশিক বাণিজ্যও বাড়বে।
পরিকল্পিত উপায়ে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। আর ওই শিল্প-কারখনার জন্য কাঁচামাল আমদানিতে বন্দরের গুরুত্বও বাড়বে। এতে করে এ জেলার মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়ে যাবে। এছাড়া বেকারত্ব কমবে।
সাতক্ষীরা জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু জানান, সরকার সাতক্ষীরা জেলাকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা করেছেন এটি জেলাবাসীর জন্য একটি খুশির সংবাদ। উপকূলীয় জেলা হলেও সাতক্ষীরা অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এখান থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য দেশের বাইরে রফতানি করা হয়। এর মধ্যে চিংড়ি, কাঁকড়া, আম, মধু, মাটির টালি ও সার্জিক্যাল গজ ব্যান্ডেজ উল্লেখযোগ্য। সরকার সাতক্ষীরা জেলাকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা করায় এখন আরো প্রসার ঘটবে এ জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যে।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো. আনিসুর রহিম জানান, এ জেলাকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণার দাবি সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের। বর্তমান সরকার সাতক্ষীরাবাসীর সে দাবি পূরণ করেছেন। এখন থেকে এ জেলায় উদ্যোক্তা তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠিত হবে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা। এতে বেকারত্ব ঘুচবে যেমন, তেমনি উৎপাদনমুখী হবে জেলা।
আশির দশকে সাতক্ষীরায় ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে মিলটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। এরপর নতুন করে বড় বা মাঝারি কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি এ জেলায়।









