সরকার সোলার সরঞ্জামে ‘শূন্য শুল্ক’ সুবিধা ঘোষণা দিলেও আমদানিকারকরা এ সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ওমেরা রিনিউয়েবল এনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসুদুর রহিম। তিনি বলেন, সোলার প্যানেল ও ইনভার্টার আমদানিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিমুখী শর্ত জুড়ে দেয়ায় মাঠপর্যায়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং কার্যত শুল্ক বেড়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন তিনি। ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক এ পলিসি কনক্লেভের আয়োজন করে বণিক বার্তা।

কনক্লেভে মাসুদুর রহিম বলেন, বৃহৎ মেগা প্রকল্প ও স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদকের (আইপিপি) নিয়মাবলি ছোট ছোট রুফটপ প্রকল্পের ওপর চাপিয়ে দেয়ায় এনলিস্টমেন্ট ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হারাচ্ছেন এবং কাঙ্ক্ষিত ‘নেট মিটারিং’ সুবিধার সঠিক বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলার কোনো বিলাসিতা নয়; বরং এটি জাতীয় অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হওয়া উচিত।

মাসুদুর রহিম বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিগত দেড় দশকে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববাজারে এলএনজি, কয়লা ও জ্বালানি তেলের দাম ক্রমাগত ওঠানামা করায় দেশের শিল্পখাত চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

তিনি বলেন, সরকারি গবেষণার তথ্যমতে, দেশের শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং সরকারি-বেসরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদ ব্যবহার করে ৫ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করা সম্ভব। এতে সরকার বছরে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় করতে পারবে এবং প্রতি বছর প্রায় আড়াই থেকে সাড়ে তিন মিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে। এত বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে দেশে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার স্থাপিত হয়েছে।

ওমেরা রিনিউয়েবল এনার্জির সিইও বলেন, প্রযুক্তিগতভাবে বাংলাদেশ এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী। দেশের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের রোবটিক সিস্টেম ও ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে নিজস্ব সোলার প্যানেল তৈরি করছে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এসব প্যানেল এখন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও হচ্ছে। তাই ইউটিলিটি-স্কেল ও রুফটপ—উভয় প্রকল্পেই দেশীয় উৎপাদিত প্যানেল ব্যবহারে অগ্রাধিকার এবং নীতিগত সুবিধা দেওয়া দরকার। এতে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে স্থানীয় শিল্পও বিকশিত হবে।

এ ছাড়া বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের (বিইএসএস) সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত শিল্পে গ্রিন প্রোডাকশন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মাসুদুর রহিম। তিনি বলেন, অবিলম্বে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সঠিক নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে, উৎপাদন ব্যয় কমাবে এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শক্তিশালী, স্বাবলম্বী রাষ্ট্রে পরিণত করবে।