মোনাজাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারবর্গের হত্যাকারীদের জান্নাত চেয়ে দলীয় পদ হারিয়েছেন রাজশাহীর তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার আবদুর রাজ্জাক।

শুক্রবার রাতে জরুরি সভা করে তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগ বরাবর সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। ওই পত্রে স্বাক্ষর করেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বাক্কার মৃধা মনসুর ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।

এ বিষয়ে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর ১২টা ১ মিনিটে তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগ পৌরসভার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারবর্গ, জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত হয়।

মোনাজাত পরিচালনা করেন পৌর আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার আবদুর রাজ্জাক। মোনাজাত পরিচালনাকালে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত এবং অগ্রহণযোগ্য একটি বাক্য উচ্চরণ করেন। এর প্রেক্ষিতে পরদিন পৌর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জরুরি সভা করে নির্বাহী কমিটি।

সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে খন্দকার আবদুর রাজ্জাককে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য বাগমারা উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়। 

এর আগে পৌর আওয়ামী লীগের মোনাজাতের বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ১৬ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘মাবুদ জাতির জনক এবং তার পরিবারকে যারা হত্যা করেছেন, আল্লাহ তাদের সকলকে জান্নাত দান করে দিও আল্লাহ।’ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

এ ব্যাপারে দোয়া পরিচালনাকারী আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক জানান, মোনাজাতে খুনিদের জাহান্নাম কামনা করতে গিয়ে মুখ ফসকে জান্নাত শব্দটি বেরিয়ে গেছে। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।