বগুড়ায় অতি বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদ নদীতে ধীরে ধীরে পানি বাড়তে শুরু করেছে। জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, গত ৩ দিনে জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার মথুরাপাড়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৫ দশমিক ৩ মিটার। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি স্থিতি রয়েছে। এখানে পানির বিপৎসীমা ১৬ দশমিক ২৫ মিটার। অর্থাৎ পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনো তা বিপৎসীমার ১২২ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানির বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলার হাটশেরপুর, ফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দারা জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বন্যার সৃষ্টি হবে। সে কারণে স্থানীয় অনেকেই নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। অনেকেই নৌকা মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করে নিচ্ছে।

বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, বগুড়ায় অতি বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদ নদীতে ধীরে ধীরে পানি বাড়তে শুরু করেছে। জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্যার আশঙ্কায় প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার রহমান জানিয়েছেন, যমুনা নদীতে প্রতি বছর এই সময় বন্যা হয়ে থাকে। সে বিষয়ে প্রশাসন থেকে প্রস্তুতি হাতে নেয়া হয়েছে। পানিতে আক্রান্ত এলাকাবাসীর ত্রাণ সহায়তার জন্য বগুড়া জেলার সংশ্লিষ্ট দফেতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

এদিকে, বগুড়ার শেরপুর উপজেলা, বগুড়া সদর উপজেলার করতোয়া নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথাও কোথাও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এছাড়া, ধুনট উপজেলার সরকারপাড়া-ভরনশাহী জনগুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কটিতে অতি বর্ষণে প্রায় ১০ মিটার ভেঙ্গে নদী গর্ভে চলে গেছে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা থেকে মাটি ভরাট করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হয়।