খেজুরের গুড় তৈরির প্রধান ও একমাত্র উপাদান হলো খেজুর গাছ থেকে নিঃসৃত রস, যা বিশেষ প্রক্রিয়ায় জ্বাল দিয়ে তৈরি হয় তরল বা নরম গুড় ও পাটালি। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার একটি কারখানায় ভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি হচ্ছিল গুড়। অধিক মুনাফার আশায় চিনি, চুন, ডালডাসহ বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল খেজুরের ভেজাল গুড়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গত রোববার বিকালে উপজেলার আড়ানী চকরপাড়া এলাকার ওই কারখানায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করার পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয় সাতজনকে।

গতকাল সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে অভিযানের বিস্তারিত জানান জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। তিনি বলেন, ওই কারখানা থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ৫০ মণ ভেজাল খেজুরের গুড় জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি গুড় তৈরির জন্য মজুদ করা ১০ বস্তা চিনি, ১৮ কেজি ফিটকিরি, ২৫ কেজি চুন, ৬০০ গ্রাম ডালডা, এক কেজি হাইড্রোজসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় কারখানার মালিক রকিব আলী, সহযোগী সুমন আলী, অনিক আলী ওরফে পাইলট, মাসুদ রানা, বিপ্লব হোসেন ওরফে সাজু, মামুন আলী ও মো. বাবু নামে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা আড়ানী চকরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সুপার জানান, গত কয়েক মাস ওই কারখানায় চিনি, চুন, হাইড্রোজ, ফিটকিরি, ডালডা ও বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে ভেজাল খেজুরের গুড় তৈরি হচ্ছিল। এ গুড় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত হচ্ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কেবল খেজুরের গুড় নয়, আখ মৌসুমে ভেজাল আখের গুড়ও তৈরি করে বাজারজাত করতেন সংশ্লিষ্টরা। সংবাদ পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সাতজনের বিরুদ্ধে বাঘা থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।