ট্রাকচাপায় নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুব হাবিব হিমেলের দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। গতকাল বেলা আড়াইটায় তার নানাবাড়ি নাটোর সদর উপজেলার গাড়িখানা কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ঢল নামে। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হিমেলের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করার ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। সেই সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরেক শিক্ষার্থী রিমেলের চিকিৎসার সব খরচও প্রশাসন বহন করার আশ্বাস দেয়।
উপাচার্য বলেন, বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ যে কত ভারী তা আমি বুঝি। আপাতত আজকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে, তবে এফসির সঙ্গে বৈঠক করে এ ক্ষতিপূরণ বাড়ানো হবে। হিমেলের পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব নেবে বিশ্ববিদ্যালয়। ধাপে ধাপে আরো সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে গতকাল দুপুরে ট্রাকচালক টিটু মিয়া (৩৫) ও সহকারীকে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থেকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে মতিহার থানার এডিসি একরামুল হক জানান, গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ট্রাকচালককে আটক করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।
মধ্যরাতে প্রক্টরকে প্রত্যাহার: নিজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পাওয়া যায়নি। বারবার শিক্ষার্থীরা ফোন দিলেও কেউ না আসায় মরদেহটি বিচ্ছিন্ন অবস্থায়ই পড়ে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হন এবং ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলীর পদত্যাগ চান। রাত দেড়টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রক্টরকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। গতকাল বিকালে তাকে অব্যাহতি দিয়ে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আসাবুল হককে নতুন প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনে ট্রাকচাপায় নিহত হন হিমেল। ক্যাম্পাসে দুটি আবাসিক হল ও একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। নির্মাণকাজে ট্রাকযোগে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী আনা-নেয়া হচ্ছে। এ সময় হিমেল ও রায়হান মোটরসাইকেলযোগে ক্যাম্পাস থেকে হলে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নির্মাণ সামগ্রীবাহী একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই হিমেল মারা যান। এ ঘটনায় পাঁচটি ট্রাকে আগুন দেয়া হয় এবং ঢাকা-রাজশাহী মহসড়ক অবরোধ ও উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।









