জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহ এবং কার্বন ক্রেডিট ও কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত জাতীয় কাঠামোর আওতায় আনতে ২৫ সদস্যের ‘জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ (ন্যাশনাল কমিটি অন ক্লাইমেট ফাইন্যান্স-এনসিসিএফ) গঠন করেছে সরকার।

আজ বুধবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় কমিটির সভাপতি, পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সহসভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা।

এ কমিটি দেশের জলবায়ু অর্থায়ন কৌশল, নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

এ কমিটি জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট ও কার্বন ট্রেডিং বিষয়ে জাতীয় নীতি, কৌশল এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল-৬ বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল আহরণ, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহের পরিবীক্ষণ এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে।

একই সঙ্গে এ কমিটি দেশে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রম পরিচালনার নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং আর্টিকেল-৬ বাস্তবায়নে মনোনীত জাতীয় কর্তৃপক্ষ বা ডেজিগনেটেড ন্যাশনাল অথরিটির কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবে।

জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত, নীতি ও নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য পৃথক ৩২ সদস্যের 'জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কিত বাস্তবায়ন কমিটি' গঠন করা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এ কমিটির সভাপতি এবং ড. সাইমুম পারভেজ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হবেন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব।

এ কমিটি জাতীয় কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত পরিবীক্ষণ করবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় কমিটির সভা বছরে ন্যূনতম দুইবার অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রয়োজন হলে যে কোনো সময় সভা আহ্বান করা যাবে। কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে কমিটি কার্যকর হয়েছে।