কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে চাষিরা বছরে আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা পাবেন। প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১০ জেলার ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন।
আজ রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে কৃষক কার্ড বিতরণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, আগামী পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একইদিনে ১০ জেলার ১১ উপজেলার ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক, মৎস্যজীবী, খামারি ও লবণ চাষীর মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, জমির মালিকানার ভিত্তিতে কৃষকদের ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় এ পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। কার্ড বিতরণ কার্যক্রম প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং ও দেশব্যাপী বাস্তবায়ন— এ তিন ধাপে সম্পন্ন হবে।
প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে ৮টি বিভাগের ১০ জেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধখামারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণ চাষীরাও এতে রয়েছেন।
মন্ত্রী আরো জানান, এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র ৮ হাজার ৯৬৭ জন, মাঝারি ১ হাজার ৩০৩ জন এবং বড় কৃষক ৯১ জন। এদের মধ্যে মৎস্যজীবী ৬৬ জন, প্রাণিসম্পদ খামারি ৮৫৫ জন এবং লবণ চাষী ৩ জন। প্রণোদনার জন্য নির্বাচিত ২০ হাজার ৬৭১ জনের ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশই ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক।
এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা বছরে আড়াই হাজার টাকা সরাসরি পাবেন। পাশাপাশি নির্ধারিত বিক্রেতার মাধ্যমে যন্ত্র ব্যবহার করে সার, বীজ, মাছ ও প্রাণির খাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন।
প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ ধাপ সফল হলে আগামী আগস্ট পর্যন্ত ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম চালানো হবে। পরে ৪ বছরের মধ্যে সারাদেশে এ কার্ড বিতরণ ও তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় আসবে। এতে সারের অপচয় কমবে ও চাহিদা অনুযায়ী ফসল উৎপাদন সহজ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
প্রি-পাইলটিংয়ের জন্য নির্বাচিত জেলাগুলো হলো পঞ্চগড়, বগুড়া, ঝিনাইদহ, পিরোজপুর, কক্সবাজার, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ি, মৌলভীবাজার ও জামালপুর। নির্দিষ্ট ব্লকগুলোতে পর্যায়ক্রমে এ কার্ড বিতরণ করা হবে।
কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ, কম দামে যন্ত্রপাতি, সরকারি প্রণোদনা, আবহাওয়ার তথ্য, প্রশিক্ষণ, রোগ দমনের পরামর্শ, বীমা সুবিধা এবং ন্যায্য দামে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন।










