বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি আবারো বাড়তে শুরু করেছে। বিপৎসীমার মাত্র এক মিটার নিচ দিয়ে গড়াচ্ছে জল। এভাবে চললে শিগগিরই বন্যার আশঙ্কা করছেন নদী পাড়ের মানুষ। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, পানি বৃদ্ধির গতি দেখে আরো দুদিন পর বলা যাবে বন্যা হবে কিনা।

সারিয়াকান্দি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত ৩০ আগস্ট থেকেই বাড়ছে যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি। ওইদিন যমুনা নদীতে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ৫২ মিটার। তা বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল সকাল ৯টায় হয়েছে ১৫ দশমিক ৭১ মিটার। ৩০ আগস্ট বাঙালি নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৬০ মিটার। কয়েকদিনে তা বেড়ে গতকাল সকাল পর্যন্ত হয়েছে ১৪ দশমিক ৫০ মিটার। তবে যমুনা নদীর পানি এখনো বিপদৎসীমার ১ দশমিক শূন্য ১ মিটার ও বাঙালি নদীর পানি ১ দশমিক ৩৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপনির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাসকিয়া জানান, গত কয়েকদিন ধরেই সারিয়াকান্দির নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যমুনার পানি ১৬ মিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। দুদিন পর জানা যাবে এবার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে কিনা।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, যেহেতু উজানে অতিবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। তাই পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে বেশ কিছু ফসলহানি আশঙ্কা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে হাইব্রিড জাতের মরিচ ও আমন ধান অন্যতম। তবে পানি নেমে গেলে পলিমাটিতে।

পানি বৃদ্ধিতে দুচিন্তায় রয়েছে উপজেলার যমুনা পাড়ের হাইব্রিড মরিচ চাষীরা। তারা মাত্র জমিতে হাইব্রিড মরিচ রোপণ করেছেন। তাদের মরিচের গাছগুলো মাত্র বেড়ে উঠতে শুরু করেছে। এর আগে গত জুন-জুলাই মাসে বন্যাকবলিত হয়ে উপজেলার সাত ইউপির ৭৭ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় পাটসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাষীরা আবারো জমিতে পাট, আমনধান, আউশধান, গাইঞ্জা ধানের বীজতলাসহ নানা ধরনের ফসল জমিতে আবাদ করেছেন। পুনরায় পানি বৃদ্ধিতে জমির ফসলহানির সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় চিন্তায় পড়েছেন চাষীরা।

সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউপির সুজাতপুর চরের হাইব্রিড মরিচ চাষী গেন্দা সরকার বলেন, প্রতি বছর প্রায় আট বিঘা জমিত মরিচের চাষ করি। গত কয়েকদিন আগে এক বিঘা জমিত হাইব্রিড মরিচ চাষ করা হয়েছে। চাষের পর চারাগুলো লেগে উঠেছে। এর মধ্যে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে বন্যায় মরিচের জমির নষ্ট হবে।

সারিয়াকান্দি কৃষি অফিসের তথ্যমতে এ বছর উপজেলায় স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ হেক্টর। যার মাত্র ৬০০ হেক্টর অর্জন হয়েছে। হাইব্রিড মরিচের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০০ হেক্টর। যার ১৬০ হেক্টর অর্জন হয়েছে।

এ বছরের গত ১৭ জুন শুক্রবার বিকাল ৬টায় যমুনা নদীর পানি বিপদৎসীমা অতিক্রম করেছিল। এরপর পানি বেড়ে গত ২১ জুন মঙ্গলবার যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার সর্বোচ্চ ৬৪ সে. মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছিল। বন্যায় ২ হাজার ৪৬৯ হেক্টর কৃষিজমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। এর মধ্যে পাট ২ হাজার হেক্টর, আউশ ধান ৪৫০ হেক্টর, ভুট্টা ৪ হেক্টর এবং সবজি ১৫ হেক্টর ছিল।