বগুড়ার শেরপুরে জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে শ্বশুর আসাদুল ইসলাম (৪৬) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার তিনমাথা নামক স্থানে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার পর থেকে জামাই সাব্বির পলাতক। খবর পেয়ে থানসা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

বগুড়ার শেরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পরপরই জামাই সাব্বির পালিয়ে গেলেও তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের পারভবানীপুর গ্রামের শাহিন আকন্দের ছেলে সাব্বির হাসান একই গ্রামের আসাদুল ইসলামের মেয়ে শিলু আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রায় এক বছর আগে ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে তারা বিয়ে করে। পরে সাব্বিরের পরিবার মেনে নিলেও আসাদুল ইসলাম মেয়ে-জামাইকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান।

এ নিয়ে একাধিকবার সমঝোতা বৈঠকও করা হয়। চার-পাঁচ মাস আগে জামাই মেয়েকে মেনে নেন আসাদুল ইসলাম। এরপর থেকে জামাই সাব্বির শ্বশুরের কাছে যৌতুক হিসেবে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে আবারো জামাই-শ্বশুরের বিরোধ দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন আসাদুল ইসলাম। বাড়ির কাছাকাছি তিনমাথা নামক স্থানে পৌঁছামাত্র দাবীকৃত যৌতুকের টাকা নিয়ে জামাই-শ্বশুরের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় জামাই সাব্বির শ্বশুর আসাদুলের বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।