সাতক্ষীরা শহরের ব্যস্ততম সড়ক সুলতানপুর এলাকায় এক মাসেরও বেশি সময় আগে একটি কালভার্টের একাংশ ভেঙে পড়েছে। সড়কটি তিনটি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ চলাচলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। একই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। দীর্ঘদিনেও ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টটি সংস্কার না করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। 

স্থানীয় সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মাদ, শফিকুল ইসলাম ও এবাদুল হক জানান, এক মাসেরও বেশি হয়েছে কালভার্টটির একাংশ ভেঙে পড়েছে। ভেঙে পড়া অংশের পাশ দিয়ে কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা মেরামত বা নতুনভাবে নির্মাণের সিদ্ধান্ত না নেয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে।

তারা বলেন, প্রতিদিন আশাশুনি, দেবহাটা ও সদর উপজেলার এক লাখের বেশি মানুষ চলাচলে এ কালভার্ট ব্যবহার করে। এছাড়া ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে এ কালভার্টের ওপর দিয়ে। কালভার্টটির কাছের জেলায় বড় বাজার হওয়ায় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপসহ অন্যান্য মালবাহী গাড়ি চলাচল করে। এক মাসের বেশি হয়েছে এসব যানবাহন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অসিম বরণ চক্রবর্তী জানান, উপজেলা শহর থেকে শত শত ব্যবসায়ী সুলতানপুর সড়ক ব্যবহার করে সাতক্ষীরা শহরে আসেন। কিন্তু এ ব্যস্ততম সড়কে একটি কালভার্ট দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে আছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে জনসাধারণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্ট সংস্কারের দাবি জানান।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো. আনিসুর রহিম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এ কালভার্ট বহু পুরনো। ৮-১০ বছর কালভার্টটি মেরামত করা হয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার ভেঙে পড়ে। এতে রাষ্ট্রের টাকা নষ্ট হলেও দীর্ঘমেয়াদে জনসাধারণ সুবিধা পায় না।

তিনি বলেন, কালভার্টটি বড় বাজরের কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্ট সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

সাতক্ষীরা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ আনোয়ারুল হক মিলন জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান, কালভার্টটি অনেক পুরনো। বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বহুবার মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নতুন কালভার্ট নির্মাণে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যে টেন্ডার দেয়া হবে। জনসাধারণের একটু ভোগান্তি হলেও আপাতত কিছুই করার নেই।