করোনাকালীন সংকট ও পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা আজ হতাশায় রূপ নিয়েছে। বাজারে নিয়ন্ত্রণহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট ও প্রশাসনিক হয়রানির কারণে দেশের রেস্তোঁরা খাত বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ রেস্তোঁরা মালিক সমিতি।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করে সংগঠনটি।

সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোঁরা ব্যবসায়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ খরচ জ্বালানির পেছনে ব্যয় হয়। তবে লাইনের গ্যাস সরবরাহ সংকট এবং সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি সংকটের কারণে এই ব্যয় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এতে খাতটি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

লিখিত বক্তব্যে ইমরান হাসান জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রেস্তোঁরা ব্যবসায়ে। এতে করে অনেক উদ্যোক্তা লোকসানে পড়ছেন, অনেক রেস্তোঁরা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে রেস্তোঁরা খাতের প্রধান সংকটগুলোর মধ্যে রয়েছে—তীব্র জ্বালানি সংকট, ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের হয়রানি, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের চাপ, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের অভাব, অনিয়ন্ত্রিত স্ট্রিট ফুডের বিস্তার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সুস্পষ্ট অঙ্গীকারের ঘাটতি।

সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে এলপিজি গ্যাস সংকটের কথা তুলে ধরে বলা হয়, অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনে রান্না করতে গিয়ে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হলে গ্রাহক হারাচ্ছেন মালিকরা। অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা, এলপিজি সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং রেস্তোঁরা ও আবাসন খাতে পুনরায় প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া ট্রেড ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজি ও হুমকির মাধ্যমে মালিকদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে বলা হয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি রেস্তোঁরাগুলো করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মতো নয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রমিকদের নানা সুবিধা দেওয়ার পরও এই খাতকে টার্গেট করে নৈরাজ্য চালানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোঁরা খাতকে একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের আওতায় এনে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি জানানো হয়।

একই সঙ্গে ভ্যাট ও কর আরও সহনীয় করা, উৎসে কর প্রত্যাহার এবং ক্যান্টিন ও ক্যাটারিং সার্ভিসে ভ্যাট ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়া হয়। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত এবং গ্যাস সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান না হলে রেস্তোঁরা মালিক ও কর্মচারীরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে রেস্তোঁরা খাত আবারও অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।