প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীরা। ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ আবাসনের দাবিতে আজ বুধবার সকাল থেকে এই বিক্ষোভ শুরু করেন মেডিকেল কলেজটির শিক্ষার্থীরা। পরে তালা খুলে নেয়া হলেও ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ৫৪ বছর আগে ১৯৬৮ সাথে বরিশাল মেডিকেল কলেজটি স্থাপনের সাথে হাবিবুর রহমান, জামিলুর রহমান, মাইনুল হায়দার ও ডা: রাফি ইন্টার্ন হোস্টেল নামের চারটি ছাত্রাবাস ও মেয়েদের জন্য ২ টি ছাত্রী নিবাস নির্মাণ করা হয়। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো হল নির্মাণ করা হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো এই ৬টি হলের অবস্থাই এখন নাজুক। এখানকার একটি হল (হাবিবুর রহমান) এরইমধ্যে বসবাসের অনুপোযোগী ঘোষণা করেছে কতৃপক্ষ। বাকি যেগুলো আছে তাতে পলেস্তারা খসে আহত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গতরাতে ছাত্রদের জামিলুর রহমান ২ নম্বর হলে এমন ঘটনা ঘটার পর, হল ছেড়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ আবাসনের দাবিতে তাদের এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন শিক্ষকরাও।

মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ইসরাক হাসান জানিয়েছেন, আবাসন সংকট থাকার কারণে এ কলেজে শিক্ষার্থীদেরকে জরাজীর্ণ ভবনে থাকতে হচ্ছে। এতে করে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই সকল শিক্ষার্থীদের একযোগে এ কর্মসূচি পালন করছেন।

আরেক শিক্ষার্থী তাহাসিন জানান, হাবিবুর রহমান ছাত্রাবাস পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে কতৃপক্ষ। দ্রুত এই হলের ছাত্রদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া আমাদের অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে কিন্তু হল নির্মাণ করা হয়নি। আবাসন সঙ্কট নিরসনে নতুন হল নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না ঘটলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, সচিব মহোদয় ফোন করে হোস্টেল সংস্কারের কথা বলেছেন। আমরা অতি দ্রুত কাজ শুরু করব। এছাড়া কলেজে নতুন দুটি হোস্টেল নির্মাণকাজ শিগগির শুরু হবে।