যশোরে ছয়টি আসনেই নৌকার বিপক্ষে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিটি আসনেই নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়েছে। সেদিক বিবেচনায় জেলার ছয়টি আসনে ৮২৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৭৫টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ; যা মোট কেন্দ্রের ৩৩ শতাংশের বেশি।
গতকাল দুপুরে যশোর পুলিশ লাইনসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যেসব কেন্দ্র ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলা হচ্ছে, আগে সেগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হতো। বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করে এ তালিকা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে যে কেন্দ্রে ভোটার বেশি, কোনো প্রার্থীর বাড়ির কাছে ভোট কেন্দ্র কিনা, প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা, যাতায়াত ব্যবস্থা ইত্যাদি। নির্বাচন সামনে রেখে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হবে। নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে। পরিবেশ ভালো রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মতবিনিময় শেষে পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও আমরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছি না। নির্বাচনে নিরাপত্তা দিতে ২ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য, ১০ হাজার আনসার সদস্য, ৪৫০ বিজিবি সদস্য, সেনা সদস্য, ম্যাজিস্ট্রেটসহ গোয়েন্দা বাহিনীর ১৬ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া সাদা পোশাকে গোয়েন্দা বাহিনী কাজ করবে। নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো থাকবে যশোরের সব কেন্দ্র।’
এর আগে পুলিশ লাইনস মাঠে প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী সহকারী পুলিশ সুপার ও পুলিশের ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্য ও আনসার সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কমকর্তারা। এ সময় তাদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদানের ব্যবস্থা এবং শতভাগ নির্বাচনী সরঞ্জাম ও ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রক্ষার নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে কোনো প্রার্থী ও তার সমর্থকদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা এবং ভোটের দিন দুপুরে শুকনো খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। এজন্য প্রত্যেককে মাথাপিছু ১ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রলয় কুমার জোয়ারদার জানান, সাধারণ ভোট কেন্দ্রের তুলনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যশোরে ছয়টি আসনে ১৬ হাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন উপপরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে ১৬ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সদস্য নিয়েজিত থাকবেন। এছাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নির্বাচনী এলাকা টহল দেবেন সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাবের সদস্যরা।
যশোর পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘কেন্দ্র দখল, ভোটকক্ষ দখল, ভোট কাটা, ভোটের পরিবেশ নষ্ট করা—এ ধরনের চিন্তা যদি কেউ করেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ যদি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ছক করেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনে ৩২ প্রার্থী লড়বেন। নৌকার পাশাপাশি স্বতন্ত্র আট প্রার্থী মাঠে থাকছেন। জেলায় ৮২৫টি ভোট কেন্দ্রে ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৫ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৭৬ হাজার ১০৫ এবং নারী ১১ লাখ ৬২ হাজার ৯৩৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৫ জন।










