জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইউনিসেফের গ্লোবাল টিমের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ভাইস-চ্যান্সেলরের দপ্তরে কনফারেন্স হলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মাইক্রো-ক্রেডেনসিয়াল একাডেমি প্রতিষ্ঠা ও কোর্স উন্নয়ন, স্কিল বেইজড কোর্স, আইসিটি, ডিজিটাল কনটেন্ট ও কারিকুলাম উন্নয়ন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণার ফিজিবিলিটি স্ট্যাডিসহ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গৃহীত নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইউনিসেফের সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউনিসেফের প্রধান কার্যালয়ের জেনারেশন আনলিমিটেডের সিনিয়র উপদেষ্টা থমাস মাইকেল কে। সভায় প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. নাজমুল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর লুৎফর রহমান।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের হয়ে আলোচনায় অংশ নেন ইউনিসেফের প্রধান কার্যালয়ের জেনারেশন আনলিমিটেডের শিক্ষা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আপো কুসেলা, পিটুই গ্লোবাল সমন্বয়ক আইরিস মে এলেন ক্যালোগ, প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ফাহমিদা শবনাম এবং ইস্তানুল কবির।
সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক তরুণ গ্রাজুয়েটদের দক্ষ, কর্মমুখী ও মানবসম্পদে পরিণত করার বিভিন্ন কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দক্ষ, কর্মমুখী, ডিজিটাল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলমান সহযোগিতা আরো জোরদার এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর দেশের ফরমাল ও ইনফরমাল সেক্টরে ৭০ শতাংশ গ্রাজুয়েট তৈরি করে। বিপুলসংখ্যক গ্রাজুয়েটকে দক্ষ ও কর্মমুখী করে তুলতে ইউনিসেফ বাংলাদেশ যে সহযোগিতা করছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইসিটি ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে দেশের অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করেছে। এ কার্যক্রমকে আরো এগিয়ে নিতে ইউনিসেফ বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ড. আমানুল্লাহ বলেন, উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা নিয়ে গবেষণার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ গবেষণা হবে সারাদেশব্যাপী। বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আমাদের ডিগ্রিধারীদের দক্ষতা ও যোগ্যতার চাহিদা তৈরি করতে আমরা কাজ করছি।
এসময়, ইউনিসেফের সিনিয়র উপদেষ্টা থমাস মাইকেল কে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান এবং বিপুলসংখ্যক তরুণ এর সঙ্গে যুক্ত। তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ আরো সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন এবং এ লক্ষ্যেই আমাদের অংশীদারত্ব।
রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম, কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ এইচ এম রুহুল কুদ্দুস, ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিন কাশেম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীন, ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজের চেয়ারম্যান মো. মুজাহিদুল ইসলাম এবং আইসিটির (কারিকুলাম) ফোকাল পার্সন সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজমা তারা।










