ডিজিটাল সেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, কাউকে পিছিয়ে না রেখে সব নাগরিকের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা মিলনায়তনে ‘গ্লোবাল অ্যাক্সেসিবিলিটি অ্যাওয়ারনেস ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে এখন থেকে সব ডিজিটাল সেবার ডিজাইন করা হবে। তিনি জানান, অভিগম্য ওয়েবসাইট ও অ্যাপ তৈরির কাজ এরই মধ্যে শুরু করা হয়েছে। বিষয়টিকে দয়ার নয়, অধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিকে মানুষের প্রয়োজন, সক্ষমতা ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় আরো সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে সম্পদে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ডিজিটাল অভিগম্যতায় কাজ করা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোকে সরকার সহযোগিতা দেবে। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সব নাগরিক যেন সহজে ডিজিটাল সেবা নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সব নাগরিক সমতা, স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। এজন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ৫টি উদ্যোগকে সম্মাননা দেয়া হয়। এগুলো হলো সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের থেরাপি সেবা ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবন্ধিতা তথ্যব্যবস্থা, বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সেবা, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ইউএনডিপির গ্রাম আদালত মোবাইল অ্যাপ এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের স্কাইব্যাংকিং উদ্যোগ।

পরে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ও প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন প্রতিবন্ধীবান্ধব উদ্ভাবন নিয়ে স্থাপিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। উদ্ভাবনগুলো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রফিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ আল ফাহিম। এছাড়া বক্তব্য দেন অভিগম্যতা পরামর্শক দৃষ্টিজয়ী ভাস্কর ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে সাইটসেভার্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও, ফ্রেন্ডশিপের আয়েশা তাসিন খান এবং সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেইলর উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রতি বছরের মে মাসের তৃতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে ‘গ্লোবাল অ্যাক্সেসিবিলিটি অ্যাওয়ারনেস ডে’ পালন করা হয়। দিবসটির উদ্দেশ্য হলো ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সফটওয়্যার ও অন্যান্য ডিজিটাল সেবা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সহজ ও ব্যবহার উপযোগী করে তোলা। বাংলাদেশ জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ এবং মারাকেশ চুক্তির স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ।