বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে বখশিশ ৫০ টাকা কম দেয়ায় রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেয়া সেই ওয়ার্ড বয় আসাদুল ইসলাম মীর ধলুকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গতকাল ভোরে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১২ বগুড়ার একটি দল।
ধলুকে গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিং করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসাদুল ইসলাম মীর ধলু গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কুমিরাডাঙ্গা গ্রামের মৃত জয়নুদ্দিনের ছেলে। তিনি শজিমেক হাসপাতালের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী ছিলেন।
জানা যায়, শজিমেক হাসপাতালে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় দৈনিক ওয়ার্ড বয় আসাদুল ইসলাম মীর ধলুকে দাবীকৃত বকশিশের ৫০ টাকা কম দেয়ায় গুরুতর রোগী আহত বিকাশ চন্দ্রের মুখের অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেন। মাস্ক খুলে নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে বিকাশের মৃত্যু হয়। বিকাশ অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। সে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপে গ্রিল ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করে নিজের পড়াশোনা ও পরিবারের খরচ চালাত। গত মঙ্গলবার বিকাশ সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে গাইবান্ধার সাঘাটায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় হাসপাতালের ডাক্তারের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আনুমানিক রাত ১০টায় অভিভাবকরা বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা শেষে আহত বিকাশকে ওয়ার্ড বয় আসাদুল ইসলাম মীর ধলু সার্জারি বিভাগে ট্রলিতে করে নিয়ে যায়। বেডে রোগী দিয়ে স্বজনদের কাছে ২০০ টাকা বকশিশ দাবি করেন ধলু। কিন্তু বিকাশের বাবা ২০০ টাকার স্থলে ১৫০ টাকা দিলে ধলু রেগে গিয়ে আহত বিকাশের মুখের অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন। এর পরই শ্বাসকষ্টজনিত কারণে রোগীর মৃত্যু হয়। তখন হাসপাতালে অন্যান্য রোগী ও বিভিন্ন লোকজন জড়ো হয়। এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তখন সুযোগ বুঝে ওয়ার্ড বয় আসাদুল ইসলাম মীর ধলু পালিয়ে যান। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুধবার চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
আহত রোগী বিকাশের মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় বগুড়া সদর থানায় ওয়ার্ড বয় আসাদুল ইসলাম মীর ধলুকে আসামি করে মামলা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসাদুল ইসলাম মীর ধলু বিকাশ চন্দ্র দাশের চিকিৎসারত অবস্থায় অক্সিজেন মাস্ক বিচ্ছিন্ন করায় বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি ছয় বছর ধরে হাসপাতলে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) হিসেবে অস্থায়ীভাবে কাজ করছেন। প্রতিদিন তিনি বেলা ২টা পর্যন্ত কাজ করার পর বিকাল থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রোগীদের ট্রলিতে করে পৌঁছে দেয়াসহ অন্যান্য কাজ করতেন। এ কাজের মাধ্যমে ধলু রোগীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতেন। ঘটনাটি ঘটার পর সেখান থেকে তিনি প্রথমে নওগাঁ ও পরে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রামে আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।










