সিলেট টেস্টে প্রথম দিন শ্রীলংকাকে ২৮০ রানে অলআউট করা বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ৩২ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ে। লংকান গতিতে বিধ্বস্ত স্বাগতিকরা গতকাল বাকি সাত উইকেট হারিয়ে ১৮৮ রানে অলআউট। ৯২ রানের লিড পান অতিথিরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেললেও স্বস্তিতেই লংকানরা। দ্বিতীয় দিন শেষে ১১৯/৫। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাদের লিড এখন ২১১ রানের। 

শ্রীলংকাকে আজ দ্রুতই অলআউট করে টার্গেটটা আড়ইশর মধ্যে রাখতে চায় বাংলাদেশ। গতকাল দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্প বলেন, ‘ওরা এখন ২১১ রানে এগিয়ে। আমরা যদি আগামীকাল সকালে দ্রুত কিছু উইকেট নিতে পারি, তাহলে আমাদের চতুর্থ ইনিংসে ২৫০ রানের মতো তাড়া করতে হবে।’

পিচে এখনই বল অসমভাবে বেশ টার্ন করছে। যদিও লংকানরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে না। তারা ৩০০ রান টার্গেট দিতে চায় বাংলাদেশকে। দলটির পেস বোলিং কোচ দর্শনা গামাগে বলেন, ‘উইকেটে কিছুটা অসম বাউন্স আছে। এখানে রান করা সহজ নয়। আমরা যদি লিডটাকে ৩০০ রানে নিতে পারি বা তার চেয়েও বেশি, তাহলে আমরা এগিয়ে থাকব।’

সিলেটে বাংলাদেশের হয়ে লড়ছেন মূলত বোলাররা। দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে শ্রীলংকাকে ২৮০ রানে অলআউট করেন তারা। এরপর ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ব্যাটিং ইনিংসেও লড়েন তাইজুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। বলা যায়, স্বাগতিকদের স্বপ্নটা বোলাররাই বাঁচিয়ে রেখেছেন। 

অভিষেক ইনিংসে তিন উইকেট নেয়া ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা গতকালও অনবদ্য বোলিং করেন। তার জোড়া আঘাতে ৩২ রানের মধ্যে নিশান মাদুস্কা ও কুশল মেন্ডিসকে হারায় শ্রীলংকা। লংকানরা যখন একটু স্থিতি নিয়ে আসে তখন দুই স্পিনারের আঘাত। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে (২২) উইকেটকিপার লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান তাইজুল। একটু পরই নতুন ব্যাটসম্যান দিনেশ চান্দিমালকে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে লড়াকু এক ফিফটি করেন দিমুথ করুণারত্নে। এটা তার ৩৬তম টেস্ট ফিফটি। অবশেষে তিনি হার মানেন শরিফুলের কাছে। ১০১ বলে ৫২ রান করে তিনি ফাইন লেগে ক্যাচ দেন নাহিদ রানাকে। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ২৩ ও বিশ্ব ফার্নান্দো ২ রানে অপরাজিত রয়েছেন। 

এর আগে ছিল লংকান বোলারদের কর্তৃত্ব। আগের দিনের ‘নাইটওয়াচম্যান’ তাইজুল বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৬ বাউন্ডারিতে ৪৭ রান করেন। শেষ দিকে দুই পেসার খালেদ (২২) ও শরিফুলের (১৫) ব্যাটে ভর দিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দুশর কাছাকাছি পৌঁছে। লংকানদের হয়ে বিশ্ব ফার্নান্দো চারটি এবং কাসুন রাজিথা ও লাহিরু কুমারা তিনটি করে উইকেট নেন।  

সিলেটে প্রথম দিন খালেদ ও নাহিদ রানা তিনটি করে উইকেট নিয়ে শ্রীলংকাকে ২৮০ রানে অলআউট করেন। ধনাঞ্জয়া ও কামিন্দু মেন্ডিসের ২০২ রানের অবিশ্বাস্য এক পার্টনারশিপ ভেঙেছেন তিনি। এরপর দ্রুত অলআউট হয়ে যায় অতিথিরা। অবশ্য এ আনন্দ বেশিক্ষণ থাকেনি। টাইগারদের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন সিংহলিজ পেসার বিশ্ব ফার্নান্দো ও কাসুন রাজিথা। 

ওয়ানডে সিরিজে আলো ছড়ানো পেস বোলার লাহিরু কুমারা গতকাল সকালে মাহমুদুল হাসান জয় (১২), শাহাদাত হোসেন (১৮) ও লিটন দাসকে (২৫) সাজঘরে ফেরান। কাসুনের বলে তাইজুলের বিদায়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজও (১১) দলকে হতাশ করেন। এরপর দুই বোলারের লড়াইয়ে বোর্ডে আরো ৪১ রান যোগ হয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলংকা: ২৮০ ও ১১৯/৫ (করুণারত্নে ৫২, ধনাঞ্জয়া ২৩*, বিশ্ব ফার্নান্দো ২*; নাহিদ রানা ২/৪২)। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১৮৮ (তাইজুল ৪৭, লিটন ২৫, খালেদ ২২, বিশ্ব ৪/৪৮, লাহিরু ৩/৩১, কাসুন ৩/৫৬)।—দ্বিতীয় দিন শেষে।