সম্প্রতি মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রায় ৬০ শতাংশ শুল্ক কমানোর যে সিদ্ধান্ত, ভোক্তারা এর সুফল পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আইসিটি ও টেলিকম খাতে করা সংস্কার পরবর্তী সরকারের সময়ে অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর কাওরান বাজারে ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত ‘আইসিটি ও টেলিকম খাতের সংস্কারনামা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ অনুষ্ঠান আয়োজনে সহায়তা করে টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিআইপিএপি)।

শুল্ক কমানোর ফলে ভোক্তা কি সুবিধা পাবে এমন প্রশ্নের জবাবে ফয়েজ আহমদ তৈয়ব বলেন, দেশের টেলিকম খাতকে সুষ্ঠু ধারায় রাখতে এনইআইআর করার প্রয়োজন ছিল। সেটিকে কেন্দ্র করে যারা আন্দোলন করছে তাদের বিষয়টি বুঝতে হবে। এখন আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। ফলে মোবাইলের দাম কমে আসা উচিত। এর সুফল পাবে ভোক্তারা। এক্ষেত্রে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার আছে- সবাইকে যদি আমরা কার্যকর করতে পারি তাহলে অবশ্যই দাম কমে আসবে। এখন যেহেতু শুল্ক কমেছে এলসি খোলা হবে। এলসি খোলার পরে নতুন যে এলসি আসবে বা নতুন যন্ত্রাংশের বিপরীতে যখন দেশে উৎপাদন হবে তখন তার প্রভাব পড়বে। এলসির একটা লিড টাইম আছে। দু-তিন মাস, তারপর পণ্যের কাঁচামাল আসার পরে উৎপাদন পর্যন্ত একটা একটি সময় আছে। সে সময়ের পরে আমি আশা করি দাম কমে যাবে।

আইসিটি ও টেলিকমের সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি। পরবর্তীতে যারা সরকারে আসবে তারা এগুলোকে বাদ দিতে পারবে না। বাদ দেয়া হলে আমরাও চ্যালেঞ্জ করতে পারব- আমরা কোনো বাক্য বা কোনো শব্দ কেন লিখেছি। সুতরাং পরের সরকার এসে সংস্কার তুলে নেবে সেজন্য এ সংস্কার হয়নি। এ ধরনের মনোভাব আমাদের মধ্যে নেই। আমরা এ পলিসিগত কার্যক্রম অব্যাহত রাখব। যেটা করেছি সেটা স্পষ্টভাবে করে যাবো এবং আমরা চলে যাওয়ার পরে সেটা ডিফেন্ড করার জন্য আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করব।

তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি আমি তাদের (পরবর্তী সরকার) জন্য চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছি না। বরং তাদের চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করে যাচ্ছি। সমালোচনা, চাপ সবকিছু- নিজের কাঁধে নিয়ে যাচ্ছি আমরা- তারা যাতে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারে। আমি দায়িত্ব নিয়ে সবকিছু খুব সুন্দরভাবে সমাধান করে দিয়ে যাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

এসময় গ্রাহক প্রতি সিম ৫টিতে নামিয়ে আনার কোন নির্দেশনা নেই বলে দাবি করেন প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী।

ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তব্য দেন বিটিআরসির কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ, আইসিটি সেক্টর দুর্নীতি শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ, টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ ও বাক্কোর সভাপতি তানভীর ইব্রাহিম প্রমুখ।