প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা। নাগরিক অধিকার নিশ্চিতসহ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পক্ষে তারা। উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে বসবাসকারী প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার পক্ষে সেখানকার নেতারা জানিয়েছেন, যেকোনো সময় মিয়ানমারে ফিরতে প্রস্তুত তারা।

জানা গেছে, ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সে দেশের জান্তা সরকার। চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে আরো ৭০ হাজার রোহিঙ্গা। প্রত্যাবাসনের খবরে উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টা এবং ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন রোহিঙ্গা নেতারা। তারা বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। অনুপ্রবেশের আট বছরের মধ্যে প্রত্যাবাসনের এ প্রক্রিয়াকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তারা।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিচ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জুবাইর বলেন, ‘আরাকানে ফিরে যেতে পারলে আমরা খুব বেশি খুশি। এটার জন্য আমরা উদগ্রীব হয়ে আছি। এতদিন পর ড. ইউনূসের মতো একজন নেতা আমাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন। মিয়ানমার থেকে আর কোনো রোহিঙ্গা যাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ না করে সেভাবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত ত্রাণ, শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসৌদ্দোজা বলেন, ‘এটি রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়। হাই অফিশিয়ালে যেহেতু বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে তাই আমার পক্ষে বিস্তারিত বলার কিছু নেই। কোনো নির্দেশনা এলে সেটি আমরা বাস্তবায়ন করব।’

কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া তালিকাভুক্ত ৮ লাখের মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার যোগ্য বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। থাইল্যান্ডে সদ্য সমাপ্ত বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানকে এ তথ্য জানান মিয়ানমার জান্তা সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী ইউ থান শিউ।

বাংলাদেশ ২০১৮-২০ সালে ছয় ধাপে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের তালিকা দেয়। সেই তালিকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমারের নতুন দৃষ্টিভঙ্গিকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথে বড় অগ্রগতি বলছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। আরো সাড়ে ৫ লাখ রোহিঙ্গার যাচাই-বাছাইয়ের কাজ জরুরি ভিত্তিতে করবে জান্তা সরকার।