আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। গণসমাবেশ আয়োজন ও মাইক ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও দলটিকে মানতে হবে আটটি শর্ত। এসব শর্ত দিয়ে আজ বুধবার অনুমতি দিয়েছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। শর্ত না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছে আরএমপি।

আরএমপির বিশেষ শাখার (এসবি) পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত ওই অনুমতিপত্রটি হাতে পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু। গণসমাবেশ আয়োজনে গত অক্টোবরের প্রথম দিকে আরএমপি কমিশনার বরাবর আবেদন করেন মিজানুর রহমান মিনু। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেয়া হলো।

আরএমপির দেয়া শর্তগুলো মধ্যে প্রথমেই রয়েছে-মাদ্রাসা ময়দান চত্ত্বরের মধ্যেই সমাবেশের যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা, সমাবেশস্থলের আশপাশসহ অন্য কোথাও কোনো অবস্থাতেই সমবেত হওয়া এবং যান ও জন চলাচলে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য সমাবেশে আগতদের চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক (দৃশ্যমান আইডিকার্ডসহ) নিয়োগ। 

দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে- দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক-ধর্মীয় মূল্যবোধ, রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কার্যকলাপ এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান ও প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না।

তৃতীয় শর্তে বলা হয়েছে, সমাবেশে আসা-যাওয়ার পথে শোভাযাত্রা ও মিছিল করাসহ আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এরূপ কর্মকাণ্ড না করা, ব্যানার-ফেস্টুন ও পতাকায় কোনো লাঠিসোটা ও রড ব্যবহার না করা, ব্যানার-ফেস্টুন ইত্যাদির ব্যবহার সীমিত করা।

চতুর্থ শর্ত হচ্ছে- আজান, নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় সংবেদনশীল মুহূর্তে মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত আসতে পারে এমন

কোনো বিষয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য প্রদান বা প্রচার করা যাবে না। পঞ্চম শর্তে বলা হয়েছে, মঞ্চ তৈরির সঙ্গে যারা জড়িত (আইডি কার্ডসহ) তারা ছাড়া অন্য কেউ আগামী ৩ ডিসেম্বর সমাবেশ শুরুর পূর্বে সমাবেশস্থলে প্রবেশ কিংবা অবস্থান করতে পারবে না। সমাবেশের যাবতীয় কার্যক্রম ওইদিন ২টার সময় শুরু করে এবং ৫টার সময় শেষ করতে হবে। সমাগত নেতাকর্মীরা যাতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ বা আয়োজকদের সেই দায়িত্ব নিতে হবে।

ষষ্ঠ শর্ত হচ্ছে- নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমাবেশস্থলের অভ্যন্তরে ও বাইরে উন্নত রেজ্যুলেশনযুক্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। সমাবেশস্থলের বাইরে বা সড়কের পাশে প্রজেক্টর/মাইক/সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা যাবে না। সমাবেশস্থলে ইন্টারনেট সংযোগ, ব্রডব্যান্ড সংযোগ ও রাউটার ব্যবহার করা যাবে না। সপ্তম শর্ত হচ্ছে- যানবাহনসমূহ শহরের ভেতরে প্রবেশ করানো যাবে না। রাস্তা বন্ধ করে গণসমাবেশের কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকতে হবে। পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং করতে হবে। মূল সড়কে কোনো পার্কিং করা যাবে না।

আর শেষ শর্তে বলা হয়েছে- এই অনুমতিপত্র স্থান ব্যবহারের অনুমতি নয়। স্থান ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আলাদা অনুমোদন নিতে হবে। জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে অনুমতি আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।

অনুমতি পাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, পুলিশের সঙ্গে আমরা কয়েকদফা বৈঠক করেছি। তারা ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়েছেন। আমরা পুলিশের দেয়া শর্ত মেনেই গণসমাবেশ করবো। কোনো সমস্যা হবে না।