বরিশাল নগরীতে পালানোর সময় শিশু গৃহকর্মীকে রাস্তায় প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবির) পরিদর্শক মিজানুর রহমানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে নগরীর চৌমাথা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপস্থিত লোকজন বাধা দিতে গেলে পরিদর্শকের স্ত্রী ও ছেলে স্থানীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। তবে নির্যাতনকারী কারো নাম জানায়নি পুলিশ। নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মীর নাম মনি (১১)। সে বাবুগঞ্জ উপজেলার মন্টু হাওলাদারের মেয়ে।
শিশু গৃহকর্মী অভিযোগ করে বলে, সে রুপাতলী এলাকায় ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমানের বাসায় কাজ করত। এ সময় তাকে অনেকবারই বকাঝকা করা হতো। পরবর্তী সময়ে গতকাল সে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এরপর তাকে নগরীর চৌমাথা এলাকায় ধরে মিজানুর রহমানের স্ত্রী রাস্তায় প্রকাশ্যে মারধর করেন। এ সময় তার ছেলেও তাকে মারধর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী জিএম ফারুক জানান, মেয়েটি চৌমাথা বাজারের সামনের রাস্তা পার হওয়ার সময় এক নারী ও তার ছেলে তাকে মারধর শুরু করেন। এ সময় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকলে পার্শ্ববর্তী ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে তাকে থানা পুলিশের হেফাজতে দেয়া হয়।
অভিযুক্ত গৃহকর্ত্রীর স্বামী জেলা ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তিনদিন আগে শিশুটিকে তার মা-বাবা আমার বাসায় রেখে যান। আমার স্ত্রী অসুস্থ। গতকাল সকালে সে রিপোর্ট দেখানোর জন্য বাইরে বের হলে আমি বাসায় একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এ সুযোগে শিশুটি ঘরের বাইরে বের হয়ে যায়।
১১ বছরের শিশু আপনার বাসায় কী কারণে রেখেছেন? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিশুটি অসহায় হওয়ায় তার মা আমার বাসায় দিয়ে গিয়েছিলেন। আমার সস্তানদের সঙ্গী হিসেবে থাকত শিশুটি। তাকে গৃহকর্মী হিসেবে রাখা হয়নি।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানান, শিশুটির সঙ্গে কথা বলেছি। ছয়দিন আগে সে ওই বাসায় কাজ শুরু করেছে। সেখানে বকাঝকা করায় মেয়েটি ক্ষুদ্ধ হয়ে বাসা থেকে গতকাল সকালে বের হয়ে যায়। পরে পরিদর্শকের পরিবারের লোকজন খুঁজতে বের হয়। ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে পেলে তারা বাসায় নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু মেয়েটি না যেতে চাইলে টানাহেঁচড়া হয়। বিষয়টি দৃষ্টিকটু। এরপর পুলিশ খবর পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। শিশুটি বর্তমানে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছে, তার পরিবার এসে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান জানান, ভিকটিমের জবানবন্দি ও বাবা-মায়ের অভিযোগ সবকিছু শুনেই ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।










