যশোর শহরে দিন দিন বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নাগরিকরা। অথচ চলতি বছরের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গত আট মাসে পৌর কর্তৃপক্ষ নয়টি ওয়ার্ডে ১৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেছে মশা নিধনে। তাতে খুব একটা মশা নিধন হয়েছে বলে মনে করে না পৌরসভার বাসিন্দারা। গত ১০ মাসে শুধু যশোরে ৩ হাজার ৩২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের অর্ধেকের বেশি পৌর এলাকার। এ অবস্থায় নাগরিকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

যশোর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, গত ছয় মাসে তার এলাকায় একবার মশক নিধনের ওষুধ ছিটাতে দেখেছিলেন পৌর কর্মচারীদের। এখন দিন রাত সবসময় মশার উপদ্রবে তারা অতিষ্ঠ। এবার যে পরিমাণ ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে যশোরে, সে পরিমাণ মশা নিধনে পৌরসভার ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। দিন দিন বেড়েই চলেছে রোগীর সংখ্যা।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, মশা নিধন প্রক্রিয়া পৌরসভার নিয়মিত কার্যক্রম। মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নয়টি ওয়ার্ডে ১৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে মশা নিধনে।

পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুণ্ডু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মশা নিধনের কাজ চলমান। যারা অভিযোগ করছে, তাদের অভিযোগ মিথ্যা। বিভিন্ন ড্রেনও পরিষ্কার করা হচ্ছে।’ তবে পৌরসভার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘নিয়মিত নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার করলেই মশার কামড় থেকে বাঁচা যাবে।’

যশোর নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মশা নিধনে পৌরসভার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা বলছে, ১৫ লাখ টাকার ওষুধ ছিটানো হয়েছে। তাহলে মশা নিধন হচ্ছে না কেন? হয় তারা ঠিকমতো কাজ করছে না, না হয় ওষুধ মানসম্মত কেনা হয়নি। যে কারণে মশা নিধনে সফল হচ্ছে না তারা।’

এদিকে গতকাল থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ পালন করবে জেলা প্রশাসন। যার মাধ্যমে জেলায় কমবে এডিস মশা—এমনটি ধারণা আয়োজকদের।

যশোর সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘যশোরে ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে পৌরসভাকে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে। ড্রেন বা বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এসব বিষয়ে পৌরসভাকে এগিয়ে আসতে হবে, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’