দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো টি২০ ম্যাচ জয়ের পর এবার ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিল বাংলাদেশের মেয়েরা। গতকাল ইস্ট লন্ডনে ওপেনার মুর্শিদা খাতুনের ৯১ রানের দারুণ এক ইনিংসে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৫১ রানের টার্গেট দিতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের ঘূর্ণি বলে এলোমেলো প্রোটিয়ারা ১১৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে। 

ওয়ানডেতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ার দিনই স্মরণীয় জয়ও পেল বাংলাদেশ। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে হ্যামিল্টনে পাকিস্তানের বিপক্ষে করা ৭ উইকেটে ২৩৪ রানই ছিল ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর। এবার সেই স্কোরটা টপকে গেল নিগারের দল। 

টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় স্বাগতিকরা। টি২০ সিরিজ ড্র করা আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ ওপেনিং জুটির কল্যাণে দারুণ সূচনা পায়। ১৪.২ ওভারে ৬৬ রান যোগ করেন শামীমা সুলতানা ও ফারজানা হক পিংকি। শামীমা ৪৮ বলে ৫ বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৪ রানের ইনিংস খেলে আউট হয়ে যান। দ্বিতীয় উইকেটে ১২.২ ওভারে ৪৪ রান যোগ করেন ফারজানা ও মুর্শিদা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান ফারজানা ৭৬ বলে ৩৫ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন। 

এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানাকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৮৭ বলে ৮০ রান তুলেছেন মুর্শিদা। নিগার ৪৮ বলে ৩৮ রান করেন। এরপর আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে কিশোরী স্বর্ণা আক্তারকে নিয়ে ৫৩ বলে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ আড়াইশ এনে দেন মুর্শিদা। স্বর্ণা ২৮ বলে ২৭ রান করেন।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় নারী হিসেবে ওয়ানডে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত পারেননি মুর্শিদা। শেষ ওভারে ১০ রান করলেই তিনি এ কীর্তি গড়তেন। যদিও বামহাতি এ ব্যাটার শেষ ওভারে চাপের মুখে সেঞ্চুরি করতে ব্যর্থ হন। তিনি ১০০ বলে ১২ বাউন্ডারির সাহায্যে ৯১ রানে অপরাজিত থাকেন। 

এরপর বোলিংয়েও চমক দেখায় বাংলাদেশ। ৯ রানের মধ্যেই অধিনায়ক লরা উলভার্ট ও তাজমিন ব্রিটসকে আউট করেন সুলতানা খাতুন ও মারুফা আক্তার। এরপর আইসিসির নভেম্বর মাসের সেরা খেলোয়াড় স্পিনার নাহিদা আক্তার, রাবেয়া খান, ফাহিমা খাতুনের দুর্দান্ত বোলিংয়ের মুখে ৯৫ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ৩৬.৩ ওভারে ১৩১ রানে গুটিয়ে যায় দলটি। বুধবার পচেফস্ট্রুমে দ্বিতীয় ওয়ানডে।