বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর অনুমতি দেয়া হবে না।’ গতকাল সিলেট সদর উপজেলায় ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর ডান তীরের কানিশাইলে নদীতীর প্রতিরক্ষাকাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর দাবি জানালেও সরকার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সঠিকভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে।’

দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করবে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগে যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে সরকারের নজর রয়েছে।’

নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘সিলেটে নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার দীর্ঘদিনের সমস্যা মোকাবেলায় স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোচ্ছে সরকার। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা সুরক্ষিত করতে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের পাশাপাশি নদীতীর সংরক্ষণ, পুনঃখনন এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’ মন্ত্রী জানান, সুরমা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

এর মধ্যে মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেহন্দীবাগে ৪০০, কানিশাইলে ৫৫০, টোকের বাজারে ৫০০ ও মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ রয়েছে।’

তিনি জানান, এর পাশাপাশি কুশিয়ারা ও বাসিয়া নদী পুনঃখনন, রিজিং এবং সারি ও আরশারিক নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।’ এজন্য স্থানীয় মসজিদের ইমাম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে তদারকি কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধেও সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় সুরমা নদীর উভয় তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরো বলেন, ‘সিলেটের উন্নয়ন একটি সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়। সরকার, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’

তিনি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেটের নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করে উন্নয়ন কার্যক্রম আরো এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুসহ স্থানীয় জনসাধারণ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।