বগুড়ায় এক সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬ এবং উপসর্গে ৫ জনসহ আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বগুড়ায় করোনাকালে সেবাদিতে গিয়ে একাধিক চিকিৎসকের মৃত্যু হলেও এবারই প্রথম কোন নার্স মারা গেলেন। মারা যাওয়া নার্স বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (শজিমেক) সিনিয়র স্টাফ নার্স দুলালী বেগম (৪০)। করোনার শুরু থেকে তিনি বগুড়া মেডিকেলের করোনা ইউনিটে কর্মরত ছিলেন।

মঙ্গলবার সকালে বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, জেলার গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গরবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬ ও করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ১৯২ জন। নতুন করে ৫১৪ টি নমুনা পরীক্ষায় ১৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। 

এর মধ্যে শজিমেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে ২৮২ টি নমুনা পরীক্ষায় ৭২ জন, জিনএক্সাপাট মেশিনে ১৩ টি নমুনায় পরীক্ষায় ৭ জন, ১৭৫ টি র‌্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষায় ৪১ জন, টিএমএসএস বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপতালে পিসিআর মেশিনে ৪৫ টি নমুনা পরীক্ষায় ১৫ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। 

এদের মধ্যে বগুড়া সদরের ৭৩, শেরপুরে ১৮, শাজাহানপুরে ৮, সারিয়াকান্দি ৭, ধুনটে ৭, দুপচাঁচিয়ায় ৬, কাহালুতে ৪, গাবতলীতে ৪, আদমদীঘি ৩, নন্দীগ্রামে ৩, সোনাতলা ও শিবগঞ্জে একজন করে। এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৯৬ হাজার ৭০৩ টি নমুনা পরীক্ষায় মোট করোনা শনাক্ত হলো ১৮ হাজার ৩৯৯ জন। মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৪৬ জন। জেলার তিনটি হাসপাতালে মোট রোগী ভর্তি আছেন ৫২৬ জন। এ পর্য়ন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৩৩ জনের। 

জেলার শজিমেক হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৫০ বেডের বিপরীতে ভর্তি আছে ২৫০ জন, ২৫০ শয্যার মোহাম্মদা আলী হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৯৭ জন, টিএমএসএস মেডিকেলে ভর্তি আছেন ৭৯ জন। 

শজিমেকে করোনায় মারা যাওয়া প্রথম নার্স হলেন গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা দুলালী বেগম (৪০) ও একই হাসপাতালে মারা যান বগুড়ার শজাহানপুর উপজেলার পরভীন (৩৫), জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ফজলুর রহমান (৬৫), বগুড়া সদরের ফেরেদৗস আলম (৫৮), বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে মারা যান বগুড়া সদরের জয়নাল আবেদিন (৭৮) এবং টিএমএসএস হাসপাতাএল মারা যান বগুড়া সদরের হেলেনা বেগম (৪৮)।