বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কোম্পানির অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। জাহাজটির ৩১ নাবিকের সবাই বাংলাদেশী।
তিন মাস ২৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর গত ২৩ জুন রাতে হরমুজ প্রণালি পার হয় জাহাজটি। এরপর সেটি পৌঁছায় আফ্রিকার ডারবানে। সেখান থেকে বিমানে দেশে ফিরেছেন ১৬ নাবিক। ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম গতকাল দেশে ফিরে অবরুদ্ধ দশার কথা তুলে ধরেছেন।
গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দ্বিতীয় জীবন পেলাম। দেশবাসী যারা দোয়া করেছেন, মানসিক সাপোর্ট দিয়েছেন, প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিয়েছেন, সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’
শফিকুল ইসলাম জানান, যুদ্ধের সময় যখন জাহাজের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছিল এবং পাশে জাহাজ ডুবে যাচ্ছিল, তখন সরকারের পক্ষ থেকে বারবার হোটেলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় তারা জাহাজ ছেড়ে যাননি।
নাবিকরা বিমানবন্দরের টার্মিনালে প্রবেশ করলে বিএসসির কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান। বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন নাবিকদের স্বজনরা। সংবাদ সম্মেলন শেষে তারা বাইরে বের হলে স্বজনরা তাদের জড়িয়ে ধরেন। এ সময় বিমানবন্দরের টার্মিনালের বাইরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে বাংলার জয়যাত্রা। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সংঘাত শুরু হলে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে পারস্য উপসাগরেই আটকা পড়ে জাহাজটি। ১১৫ দিন পর ইরানি বাহিনীর অনুমতি পেয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে জাহাজটি।
হরমুজ প্রণালি পার হয়ে জাহাজটি ডারবানে যায়, তখন জাহাজটিতে ৩৭ হাজার ৫০০ টন সার ছিল। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে এসব সার বাংলার জয়যাত্রায় বোঝাই করা হয়েছিল। সেই সার ডারবান বন্দরে খালাস করা হচ্ছে।










