দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর সমর্থন করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি।

সোমবার (২৬ মে) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনএসএউ) ‘একটি ছোট দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ভাবনা: সিঙ্গাপুরের প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এএ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এনএসইউয়ের স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস।

তিনি বলেন, অন্তবর্তী সরকার প্রধান ড. ইউনূসের সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দারুণ সম্পর্ক রয়েছে। গতবছর বাংলাদেশ সফর করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। প্রধান উপদেষ্টা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে সহযোগিতা চেয়েছেন।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে মিচেল লি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কিছু সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। দেশকে ভালোভাবে গড়তে এসব সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। সংস্কার ইস্যুতেও আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছি। সিঙ্গাপুর সবসময় বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

এ সময় মিচেল লি সিঙ্গাপুরের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা, প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব ও স্বল্প জনসংখ্যার মতো নেতিবাচক বাস্তবতাগুলোকে তুলে ধরেন। পরে ব্যাখ্যা করেন কীভাবে সিঙ্গাপুর একটি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ, আন্তর্জাতিক আইন ও সংস্থাগুলোর পক্ষে সমর্থন ও নিজস্ব রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক জায়গা তৈরি করার মাধমে একটি উন্নত অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের এমন উত্থান নানাবিধ সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রনীতির উত্থানে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। এছাড়াও তিনি বক্তৃতায় বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুরের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

স্বাগত বক্তব্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, সিঙ্গাপুর একটি ছোট রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও বাস্তবভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করার মাধ্যমে নিজেকে একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। জাতিসংঘ ও আসিয়ানের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় সক্রিয় উপস্থিতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালন করছে। যা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।

সভাপতির বক্তব্যে এনএসইউ উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, এ সেমিনার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্রনীতির জটিল বাস্তবতা উপলব্ধির সুযোগ তৈরি করেছে। সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত, তুলনামূলক ছোট দেশ কীভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান করে নিতে পারে তা সবার সামনে তুলে ধরেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুর রব খান অনুষ্ঠানটির সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।