বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে তিনি জানান, ওয়াশিংটনভিত্তিক ঋণদান সংস্থা আইএমএফ ঢাকায় একটি দল পাঠিয়েছে, যারা এ সমর্থনের বিভিন্ন বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করছে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার সমর্থন প্রকাশ করেন। অধ্যাপক ইউনুস পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী শাসনকে উৎখাত করা ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেয়ার পর ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, এটি একটি ভিন্ন দেশ। এটি বাংলাদেশ ২.০।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন, নাগরিক প্রশাসন, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা, দুর্নীতিবিরোধী এবং সংবিধান বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের সুপারিশ করতে ছয়টি কমিশন গঠন করেছে। তিনি বলেন, সরকার কমিশনগুলোর সুপারিশসমূহের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং ভোটার তালিকা প্রস্তুত হলে ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক ইউনূস।

আইএমএফের প্রধান নির্বাহী উদ্যোগগুলোর প্রতি তার সমর্থন জানিয়ে বলেন, সরকারকে আর্থিক সহায়তা দ্রুততর করতে সংস্থা কাজ করবে। তিনি বলেন, আইএমএফের একটি দলকে তিনি দ্রুত বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন এবং দলটি বর্তমানে ঢাকায় রয়েছে। আগামী মাসে আইএমএফ ম্যানেজমেন্ট বোর্ডে দলটি তার রিপোর্ট জমা দেবে।

জর্জিয়েভা বলেন, আইএমএফ বোর্ড এই দলের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন ঋণদান প্রোগ্রাম শুরু করতে পারে বা আগের বছর চালু হওয়া বিদ্যমান সহায়তা প্রোগ্রামের অধীনে আরো ঋণদান বাড়াতে পারে।

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এবং ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান আইএমএফ প্রধানকে জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ‘অপরাধমূলক কাঠামো’ ভেঙে দিয়েছে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দেশের অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে আইএমএফের সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বিনিময় হার স্থিতিশীল করার জন্য আইএমএফের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।