দেশের
বাজারে কাঁচামরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে
রাখতে এবং চাহিদা বেশি থাকায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামরিচের আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। বৃহস্পতিবার একদিনেই সাতটি ট্রাকে ৫৭ টন কাঁচামরিচ
আমদানি হয়েছে। তবে আমদানীকৃত এ কাঁচামরিচের কাঙ্ক্ষিত
দাম না পাওয়ায় লোকসানের
কথা জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।এদিকে হিলি বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দেশীয় কাঁচামরিচের দাম কমেছে কেজিতে ৪০ টাকা করে।
দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি জানিয়ে দাম আরো কমার দাবি জানান তারা।
বৃহস্পতিবার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সাতটি ট্রাকে ৫৭ টন ২৪৭ কেজি কাঁচামরিচ আমদানি হয়। বন্দরের সততা বাণিজ্যালয়, সম্পা ট্রেডার্স ও বিকে ট্রেডার্স নামের তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে এ কাঁচামরিচ আমদানি করে। বন্দরে ক্রেতা না থাকায় ও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় এসব কাঁচামরিচ তারা ঢাকায় বিক্রির জন্য পাঠিয়েছে। এদিকে হিলি বাজারে দেশীয় কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা একদিন আগেও ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।
হিলি বাজারে কাঁচামরিচ কিনতে আসা আলম হোসেন বলেন, ‘বাজারে প্রায় প্রতিদিনই কাঁচামরিচের দাম ওঠানামা করছে। একদিন কমছে তো দুদিন বাড়ছে। গতকাল যে কাঁচামরিচ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল আজ তা ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তার পরও এখনো যে কাঁচামরিচের দাম তাতে করে আমাদের সাধারণ মানুষের নাগালে নেই। বাড়তি দামের কারণে আমাদের সংসার চালাতে যেমন হিমশিম খেতে হচ্ছে, তেমনি চাহিদামতো কিনতেও পারছি না। বাধ্য হয়ে যেখানে আগে হয়তো হাফ কেজি কিনতাম এখন সেখানে ২৫০ গ্রাম কিনছি। কখনো না কিনেই বাড়ি ফিরছি এমন অবস্থা আমাদের।’
হিলি বাজারের কাঁচামরিচ বিক্রেতা বিপ্লব শেখ বলেন, ‘কাঁচামরিচের দাম নির্ভর করে বাজারে পণ্যটির সরবরাহের ওপর। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আর কমলে দাম বাড়ে এটাই নিয়ম। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই বা কাঁচামরিচ মজুদ করে রাখার কিছু নেই। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানীকৃত কাঁচামরিচ স্থানীয় বাজারে আসে না। যার কারণে দেশীয় কাঁচামরিচ দিয়েই স্থানীয় মানুষের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। আমরা পাশের পাঁচবিবি হাট থেকে কাঁচামরিচ কিনে হিলিতে বিক্রি করছি। গতকাল যে কাঁচামরিচ আমরা ২৮০ টাকা ক্রয় করে ৩০০ টাকা বিক্রি করেছি, আজ সেই কাঁচামরিচ আমরা হাটে ২৪০ টাকা কিনেছি। খরচ হিসাব করে ২৬০ টাকা বিক্রি করছি। ’
হিলি স্থলবন্দরের কাঁচামরিচ আমদানিকারক মেসার্স সম্পা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ইদ্রিস আলী বলেন, ‘দেশের বাজারে কাঁচামরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা গত ২৬ জুন থেকেই আমদানি শুরু করেছি, কিন্তু দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম কমে যাওয়া ও আমদানি পর্যায়ে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হবে। যার কারণে ঈদের ছুটির পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হলেও আমরা কাঁচামরিচ আমদানি বন্ধ রেখেছিলাম। সম্প্রতি আবারো দেশের বাজারে কাঁচামরিচের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত বুধবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু করেছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনা করে বন্দর দিয়ে আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেন অনেকে। তবে ভারতের বাজারেই কাঁচামরিচের দাম বাড়তি যার কারণে দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম খুব একটা কমছে না। ’









