বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা, মূলধনী যন্ত্র আমদানি হ্রাস ও বিনিয়োগের নিম্নগতি—এ সব কিছুই দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা কমিয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে এমসিসিআই।

সংগঠনটি চলতি বছরের এপ্রিল-জুন মাসের (২০২৪-২৫ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিক) অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পর্যালোচনায় বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর মিশ্র ফলাফলের মধ্য দিয়ে শেষ করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দ্বিতীয় প্রান্তিকের ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে পুরো অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা স্বস্তিদায়ক মাত্রার অনেক উপরে।

যদিও প্রবৃদ্ধি এখনো মন্থর, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (চতুর্থ প্রান্তিক) ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাথমিক লক্ষণ দেখিয়েছে। রফতানি আয় ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল হয়েছে, সেইসঙ্গে অর্থনীতিতে কিছুটা গতি এসেছে।

তবুও বেশ কিছু কাঠামোগত সমস্যা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বাধা হয়ে রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে এমসিসিআই। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা, মূলধনী যন্ত্র আমদানি হ্রাস ও বিনিয়োগের নিম্নগতি—সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক গতিশীলতা কমিয়েছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক শূন্যতা ও ঋণ অনিয়মের মতো ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যা অর্থনীতির পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করেছে।